বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও
আমদানি-নির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস, বিদ্যুৎ খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার ভর্তুকির চাপ কমানো এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে প্রণীত ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত করা হয়।
আজ রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৫তম বৈঠকে এটি অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে সন্ধ্যায় সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সভার গৃহীত সিদ্ধান্তের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে জানানো হয়, বিদ্যুৎ বিভাগ ইতিমধ্যে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ প্রণয়ন করেছে। এর আওতায় আগামী গ্রীষ্মের পূর্বেই ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক (রুফটপ) সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
এই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেসরকারি বিনিয়োগ ও স্থাপনার মালিকদের উৎসাহিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে।
বর্তমানে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির সুবিশাল স্থাপনার ছাদে বিনিয়োগকারীর অর্থায়নে অর্থাৎ ‘অপারেটিং এক্সপেন্ডিচার’ (ওপেক্স) মডেলে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা বলবৎ রয়েছে। একই সঙ্গে নিজস্ব আয় থাকা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ‘ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার’ (ক্যাপেক্স) মডেলে প্যানেল বসানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
এসব আইনি জটিলতা ও স্পষ্ট বিধিবিধানের অভাব দূর করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ত্বরান্বিত করতেই মূলত ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ও বেসরকারি পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন গতি আসবে বলে আশা করছে সরকার।
আপনার মতামত লিখুন