Logo
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬  |  প্রিন্ট: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সারের ডিলারে স্বজন তোষণ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

• তালিকায় বিএনপি নেতার বয়স্ক মা, স্ত্রী; কৃষি কর্মকর্তার বাবা

• শতভাগ নীতিমালা অনুযায়ী, দাবি ডিএই মহাপরিচালকের

• অভিযোগ, বেশির ভাগ নিয়োগ বিএনপির দলীয় পরিচয়ে

• অনিয়মের প্রমাণ মিললে ডিলারশিপ পরিবর্তন: মন্ত্রী

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ মৃধার দুই সহোদর আরিফ মৃধা ও সোহেল মৃধা। আগে সারের ব্যবসার অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও শুধু ভাইয়ের পরিচয়ে তাঁরা ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে এলাকাবাসীর অনেকের অভিযোগ।

এদিকে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে বাবাকে ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের ‘মেসার্স আইমান এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক আব্দুল বাতেন, যাঁর ছেলে মোহাম্মদ দাউদ একই উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা। তবে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোহাম্মদ দাউদ।

কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলায় নতুন ৭৫ ডিলারের ৬০ জনই বিএনপির নেতা-কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। কুড়িগ্রাম সদরের ৯ ডিলারের সবাই বিএনপিসংশ্লিষ্ট। অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরাতেও। জেলাব্যাপী নিয়োগ পাওয়া ৮০ ডিলারের বড় অংশ ক্ষমতাসীন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

মৌলভীবাজারের বেশির ভাগ ইউনিয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির নেতারা পছন্দমতো ডিলার নিয়োগ করেছেন বলে অভিযোগ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলায় অনুমোদিত ৫৮ জন ডিলারের মধ্যে অন্তত ৪৫ জন বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী।

১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ

বিশেষজ্ঞের অভিমত ও সতর্কবার্তা

সরকারি কর্মকর্তার ভাষ্য

মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধির বক্তব্য

১২ অক্টোবর ময়মনসিংহের গৌরীপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মেসার্স মুন্সী এন্টারপ্রাইজের মালিক ও পৌর কৃষক দলের সভাপতি মো. গোলাম কাজীয়েল হাজাত শাহী মুন্সী ডিলারশিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে টাকা লেনদেনের অভিযোগ করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রতি ডিলার নিয়োগে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার অলিখিত বাণিজ্য হয়েছে। এতে উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা জড়িত বলেও দাবি করেন তিনি। শাহী মুন্সীর অভিযোগ, লটারিতে প্রথম স্থান পেয়েও তিনি ডিলারশিপ পাননি।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এক ফেসবুক পোস্টে প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তিনি লেখেন, ‘কে কোথা থেকে কত পার্সেন্ট টাকা নেয়, তা আমি জানি। রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা মামলা-হামলার শিকার হবেন, আর অর্থের বিনিময়ে সার ডিলারশিপ দেওয়া হবে—এমনটা হতে পারে না।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আছে, ফলে এই দলের অনেক লোক ডিলারশিপ পাবে, এটাই এ দেশের স্বাভাবিক ঘটনা। তবে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তি ও কৃষি কর্মকর্তাদের স্বজন পরিচয়ে ডিলারশিপ পাওয়া অস্বাভাবিক। অনিয়মের মাধ্যমে যারা ডিলারশিপ পেয়েছে, সরকার চাইলে তাদের পরিবর্তন করতে পারে। কারণ যারা টাকা দিয়ে ডিলারশিপ পেয়েছে, তারা বাড়তি দামে সার বিক্রি করে সেটা পুষিয়ে নিতে চাইবে। মাঠপর্যায়ে সরকারের তদারকি বাড়াতে হবে। অনিয়ম বন্ধে কঠোর হতে হবে।’

সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম। গতকাল সোমবার রাতে তিনি বলেন, ‘শতভাগ নীতিমালার আলোকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে জেলা-উপজেলা কমিটির বাছাইপ্রক্রিয়াকে। ফলে সারা দেশে সার সরবরাহব্যবস্থায় কোনো সংকট হবে না।’

ডিএই মহাপরিচালক বলেন, কোথাও যদি ত্রুটিবিচ্যুতি হয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তা ছাড়া ডিলার নিয়োগ অস্থায়ী ভিত্তিতে হয়েছে। অনিয়ম পেলে বাতিল করা হবে।

গতকাল কৃষি মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, শর্ত অনুযায়ী, ৯০ দিনের মধ্যে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারশিপ পরিবর্তন করা যাবে।

আর অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সভাপতি সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘যেসব এলাকায় ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এসেছে, সেসব ক্ষেত্রে নিয়োগ স্থগিত রাখার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।’

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল ও রাজশাহী; এবং যশোর, কুড়িগ্রাম, মৌলভীবাজার, চাঁদপুর, বগুড়া, সাতক্ষীরা, হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি)]

ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি সরকার কৃষকের দোরগোড়ায় ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছে দিতে নতুন করে ডিলার নিয়োগ দিলেও প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষভাবে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ছাড়াও বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত বা সুবিধাপ্রাপ্ত লোকজন, কৃষি কর্মকর্তাদের স্বজনদের হাতে সারের ডিলারশিপ তুলে দেওয়া হয়েছে।

অর্থের বিনিময়ে সার ব্যবসার অভিজ্ঞতাহীন ব্যক্তিদেরও ডিলার করার অভিযোগও রয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিয়মের মাধ্যমে যাঁরা ডিলারশিপ পেয়েছেন, তাঁরা আর্থিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ভবিষ্যতে সার সরবরাহ- ব্যবস্থায় সংকট তৈরি করতে পারেন।

ভুক্তভোগী কৃষকসহ বিভিন্ন মহলের অভিযোগ, নীতিমালার তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ফায়দা হাসিলের মাধ্যমেই ডিলারশিপের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে কৃষি খাতের কর্তারা বলছেন, শতভাগ নীতিমালার আলোকেই ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে জেলা-উপজেলা কমিটির বাছাইপ্রক্রিয়াকে। অভিযোগের মাত্রা ক্রমেই বেড়ে চলার প্রেক্ষাপটে গতকাল সোমবার অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত এবং সার বিতরণ ও মজুত ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সারের ডিলার রয়েছেন ৫ হাজার ২০০ জন। আর বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সারের ডিলার ৫ হাজার ৬০০ জন। সম্প্রতি সরকার আরও সাড়ে ৪ হাজারের বেশি সারের ডিলার নিয়োগ দিয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, নতুন নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের একটা বড় অংশের অতীতে সার বিক্রির অভিজ্ঞতা নেই। নিজের গুদামও নেই। অনিয়মের মাধ্যমে তাঁদের মনোনীত করা হয়েছে।

দেশজুড়ে দলীয় ভিত্তিতে স্বজন তোষণ

যশোরে সারের ডিলার হিসেবে মনোনীত ৯৮ জনের মধ্যে অন্তত ৬৫ জন বিএনপির নেতা-কর্মী ও তাঁদের নিকট স্বজন বলে জানা গেছে। চৌগাছা উপজেলায় অনুমোদন পাওয়ার এক নম্বর তালিকায় নাম রয়েছে পৌর বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা আউলিয়ার ‘মেসার্স চৌগাছা ট্রেডার্স’। দলীয় প্রভাবেই তিনি ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে অনেকের অভিযোগ। রেজা আউলিয়া নিজে ডিলারশিপের আবেদন করলেও ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান ও সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম। পাতিবিলা ইউনিয়নে আবেদন করেন জহুরুলের স্ত্রী রহিমা আক্তার লিপি। এই ইউনিয়নে সার বিক্রির পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকা চারজন আবেদন করলেও দেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে অনভিজ্ঞ রহিমা আক্তারকে।

হাকিমপুর ইউনিয়নে সারের ডিলার পেয়েছে মেসার্স নিশান ট্রেডার্স। এর মালিক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসানের মা ষাটোর্ধ্ব আমেনা বেগম। অথচ বিএনপি নেতা হাসান কিংবা তাঁর মা কখনোই সারের ব্যবসায় সম্পৃক্ততা ছিলেন না।

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানের পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার লংগাইর ইউনিয়নে মেসার্স এসএম এন্টারপ্রাইজের নামে ডিলারশিপ পেয়েছেন সংসদ সদস্যের আপন ছোট ভাই মো. মনিরুজ্জামান। তিনি দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক। উস্থি ইউনিয়নে ডিলারশিপ পেয়েছেন সংসদ সদস্যের মামা মো. মনিরুজ্জামান জসিম। তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম জাহিদুল স্যানিটারি অ্যান্ড হার্ডওয়্যার। অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, রাজনৈতিক ত্যাগ, ব্যবসায়িক যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও গুদামের সক্ষমতা যাচাই করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহীতে নতুন করে ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন ৮৫ জন। তাঁদের মধ্যে একজন জামায়াতে ইসলামীর কর্মী। বাকিদের বেশির ভাগই বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের পদধারী নেতা-কর্মী অথবা তাঁদের পরিবারের সদস্য।

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নে ডিলারশিপ পাওয়া আলিফ ট্রেডার্সের জিনিয়া পারভিন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বুলবুল হোসেনের স্ত্রী। সরদহ ইউনিয়নে ডিলার হয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আলমগীর হোসেনের স্ত্রী ইসরাত জাহানের অথৈই অ্যান্ড আরিয়া ট্রেডার্স। ইউসুফপুর ইউনিয়নে ডিলার হয়েছেন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবিনের স্ত্রী সুরভি আক্তার শিখা। বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নে ডিলার হওয়া আতিক ট্রেডার্সের মালিক জোবাইদা খাতুন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন পলাশের স্ত্রী। তানোর উপজেলার সরনজাই ইউনিয়নের মেসার্স শাহনেওয়াজ ট্রেডার্সের মালিক শাহনেওয়াজ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে। বাধাইড় ইউনিয়নের মেসার্স মর্জিনা এন্টারপ্রাইজের মালিক সিদ্দিকা তামান্না উপজেলা যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মামুনুর রশিদের স্ত্রী। তালন্দ ইউনিয়নে মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের মালিক ওমর ফারুক উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হান্নানের ছেলে।

পুঠিয়া পৌরসভার মেসার্স ফারিশ ট্রেডার্সের মালিক সাহেদ হাসান ডিলার হয়েছেন। তিনি রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মণ্ডলের নাতজামাই। মোহনপুর উপজেলার ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের ডিলারশিপ পাওয়া শাপলা ট্রেডার্সের মালিক উমর ফারুক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মালেকের ছেলে। পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের মেসার্স ইপ্তি এন্টারপ্রাইজের মালিক নাঈম ওয়াসিফ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। হরিয়ান ইউনিয়নের মেসার্স তাইফ ট্রেডার্সের মালিক আতিকুর রহমান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেনের ছেলে।

বিষয়:

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

আরও পড়ুন

  • মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে গেজেট প্রকাশ
  • বাংলাদেশ-জাপান শীর্ষ বৈঠকে বসছেন তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচি
  • নজরুলের মানবতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় নতুন প্রজন্মকে আলোকিত করার আহ্বান সংস্কৃতিমন্ত্রীর

প্রকাশক ও সম্পাদক: হাবিব রহমান

প্রিন্ট করুন