দিনের খেলা শেষে মাঠ ছাড়ার সময় মুখে মুচকি হাসি আর আলতো মাথা নাড়ানি—সেঞ্চুরি হাতছাড়ার আক্ষেপটা হয়তো এভাবেই লুকাচ্ছিলেন সাদমান ইসলাম। আলোকস্বল্পতা বাধা না হয়ে দাঁড়ালে হয়তো ক্যারিয়ারের আরেকটি স্মরণীয় শতকের দেখা পেয়ে যেতেন এই ওপেনার। তবে ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি অল্পের জন্য হাতছাড়া হলেও মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনটা দারুণ এক প্রাপ্তিতেই রাঙাল বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিন শেষে ৩ উইকেটে ২১৩ রান সংগ্রহ করেছে স্বাগতিকেরা। দিন শেষে ৯৯ রানে অপরাজিত আছেন ধৈর্য্যের প্রতীক হয়ে থাকা ওপেনার সাদমান, আর তাঁর সঙ্গে ৭ রান নিয়ে ক্রিজে আছেন লিটন দাস।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে উইন্ডিজ পেসার জেডন সিলস ও শামার জোসেফের গতি এবং নিখুঁত লাইন-লেন্থের সামনে কঠিন পরীক্ষায় পড়েন দুই টাইগার ওপেনার। দলীয় ৯ রানের মাথায় তানজিদ হাসান তামিম ব্যক্তিগত ৭ রান করে ফিরলে প্রথম ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। এরপর তিনে নামা মুমিনুল হককে নিয়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন সাদমান। তবে থিতু হয়েও ২৮ রান করা মুমিনুল এবং ১৯ রান করা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা বাজে শট খেলেই সাজঘরে ফেরেন।
সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে একপ্রান্ত আগলে রেখে ঠান্ডা মাথায় প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণ মোকাবিলা করেন সাদমান। চতুর্থ উইকেটে তাওহীদ হৃদয়ের সঙ্গে দারুণ এক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তিনি। এই জুটিতে স্কোরবোর্ড দ্রুত গতিতে ভারী হতে থাকে। তবে ব্যক্তিগত ৪২ রানে চোট পেয়ে তাওহীদ হৃদয় মাঠ ছাড়েন। নতুন ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে আসা লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে দলের রান দুই শ পার করেন এবং অবিচ্ছিন্ন থেকে দিন পার করেন সাদমান। দিনের শেষভাগে আলোকস্বল্পতার কারণে আম্পায়াররা খেলা সমাপ্ত ঘোষণা করায় ১ রান দূরে থেকে দিন শেষ করেন তিনি। ২১৯ বল মোকাবিলা করে ১০টি চারে ৯৯ রানে অপরাজিত সাদমান। উইন্ডিজের পক্ষে বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান ২টি এবং জেডন সিলস ১টি উইকেট শিকার করেছেন।