হ্যালোইন মানেই ভূত আর গা ছমছমে সব গল্প। আতঙ্ক থেকে শুরু করে অতিপ্রাকৃত ঘটনা, সিরিয়াল কিলারের ভয় কিংবা রহস্যময় বাড়ি—সব ধরনের দর্শকের জন্য রয়েছে নানা আয়োজন। হ্যালোইন উপলক্ষে নেটফ্লিক্সে দেখতে পারেন এমন ১০টি ভৌতিক সিনেমার তালিকা প্রকাশ করেছে ফোর্বস। সিনেমাগুলো দেখে নিতে পারেন ঘরে বসেই।
‘সাইকো’, ১৯৬০
মনস্তাত্ত্বিক হরর সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছবি ‘সাইকো’। মেরিয়ন ক্রেন নামের এক নারী পালিয়ে যাওয়ার পথে নির্জন একটি মোটেলে আশ্রয় নেন। মোটেলটির মালিক নরম্যান বেটস। প্রথম দেখায় তাঁকে নিরীহ মনে হলেও তাঁর আচরণে ধীরে ধীরে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে। এরপর একের পর এক রহস্যময় ঘটনা ঘটতে থাকে।
আলফ্রেড হিচককের নির্মাণ, অপ্রত্যাশিত মোড় ও বিখ্যাত শাওয়ার দৃশ্য সিনেমাটিকে কালজয়ী করেছে। মুক্তির ছয় দশকের বেশি সময় পরও ছবিটি দর্শকদের রোমাঞ্চিত করে।
‘ইভিল ডেড’, ২০১৩
পাঁচ বন্ধু নির্জন একটি কেবিনে বেড়াতে গিয়ে খুঁজে পায় রহস্যময় একটি বই। বইটি পড়ার পর তারা অজান্তেই ডেকে আনে ভয়ংকর এক অশুভ শক্তি। এরপর শুরু হয় বেঁচে থাকার লড়াই।
স্যাম রেইমির ১৯৮১ সালের কাল্ট ক্ল্যাসিক ‘ইভিল ডেড’ অবলম্বনে নতুনভাবে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। রক্তাক্ত দৃশ্য, ভয়ংকর মেকআপ ও অতিপ্রাকৃত আতঙ্কের কারণে হররপ্রেমীদের জন্য এটি বেশ উপভোগ্য হতে পারে।
‘হুশ’ (২০১৬)
বনের মধ্যে নির্জন বাড়িতে একা থাকেন বধির লেখক ম্যাডি। হঠাৎ মুখোশ পরা এক হত্যাকারী তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করে। কথা বলতে না পারা এবং বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে।
সংলাপের ব্যবহার খুব সীমিত রেখেও কীভাবে দর্শকের মনে আতঙ্ক তৈরি করা যায়, তার দারুণ উদাহরণ হাশ। পুরো সিনেমাজুড়ে টানটান উত্তেজনা ধরে রেখেছেন পরিচালক মাইক ফ্লানাগান।
‘দ্য সিক্সথ সেন্স’ (১৯৯৯)
ব্রুস উইলিস অভিনয় করেছেন শিশু মনোবিজ্ঞানী ম্যালকম ক্রো চরিত্রে। তাঁর কাছে আসে কোল সিয়ার নামের এক বালক। ছেলেটি দাবি করে, সে মৃত মানুষের উপস্থিতি দেখতে পায়। প্রথমে বিষয়টি বিশ্বাস না করলেও ধীরে ধীরে ম্যালকম বুঝতে পারেন, ছেলেটির অভিজ্ঞতার পেছনে রয়েছে ভয়ংকর এক সত্য।
ভৌতিক আবহের পাশাপাশি আবেগ ও রহস্যের মিশেলে নির্মিত সিনেমাটির শেষের চমক চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত। হ্যালোইনে দেখার জন্য এটি দারুণ একটি সিনেমা এটি। সিনেমাটির পরিচালক এম নাইট শ্যামলন।
‘দ্য রিচুয়াল’ (২০১৭)
ডেভিড ব্রুকনার পরিচালিত সিনেমাটির গল্প চার পুরোনো বন্ধুকে নিয়ে। তাঁরা সুইডেনের দুর্গম বনে হাইকিংয়ে যায়। কিন্তু পথ হারিয়ে তারা এমন এক বনে আটকে পড়ে, যেখানে লুকিয়ে আছে প্রাচীন ও ভয়ংকর এক শক্তি। ধীরে ধীরে বন্ধুদের সামনে আসতে থাকে অদ্ভুত সব ঘটনা।
স্ক্যান্ডিনেভীয় লোককাহিনি, মনস্তাত্ত্বিক আতঙ্ক ও অতিপ্রাকৃত রহস্যের মিশেলে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। বনের নিস্তব্ধতা আর অজানা প্রাণীর উপস্থিতি দর্শককে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অস্বস্তিতে রাখে।
‘অকুলাস’ (২০১৩)
একটি রহস্যময় আয়না। ভাইবোনের বিশ্বাস, তাদের মা-বাবার মৃত্যুর পেছনে দায়ী এই আয়নাটিই। বহু বছর পর তারা আয়নাটির অশুভ শক্তির প্রমাণ খুঁজতে শুরু করে। কিন্তু বাস্তব আর কল্পনার সীমারেখা ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে যায়।
মাইক ফ্লানাগানের পরিচালনায় নির্মিত সিনেমাটিতে অতীত ও বর্তমানের ঘটনাগুলো পাশাপাশি এগিয়েছে। আয়নার রহস্য এবং চরিত্রগুলোর মানসিক দ্বন্দ্ব ছবিটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।
‘ক্রিপ’ (২০১৪)
অর্থকষ্টে থাকা এক ভিডিওগ্রাফার একটি কাজ পান। পাহাড়ি এলাকার নির্জন কেবিনে মৃত্যুপথযাত্রী এক ব্যক্তির ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করতে হবে তাঁকে। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর মক্কেল স্বাভাবিক আচরণ করছেন না। ধীরে ধীরে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে আটকে পড়েন তিনি।
মার্ক ডুপ্লাস অভিনীত সিনেমাটি ফাউন্ড-ফুটেজ ধারার ভৌতিক থ্রিলার। কম বাজেটের নির্মাণ হলেও গল্পের অস্বাভাবিকতা ও চরিত্রের রহস্য দর্শককে আকৃষ্ট করে। এটি পরিচালনা করেছেন প্যাট্রিক ব্রাইস।
‘স্মাইল ২’ (২০২৪)
পপ তারকা স্কাই রাইলি নতুন একটি কনসার্ট সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ক্যারিয়ারে নতুন করে ফিরে আসার মুহূর্তে তাঁকে তাড়া করতে শুরু করে ভয়ংকর কিছু দৃশ্য। অদ্ভুত হাসি নিয়ে মানুষের উপস্থিতি এবং বাস্তব-অবাস্তবের সীমারেখা হারিয়ে ফেলার অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে।
নাওমি স্কট অভিনীত, পার্কার ফিন পরিচালিত সিনেমাটি ২০২২ সালের ‘স্মাইল’–এর সিকুয়েল। আতঙ্ক ও সংগীতজগতের ঝলমলে জীবনের আড়ালের অন্ধকার মিলিয়ে ছবিটি তৈরি হয়েছে।
‘দ্য ব্ল্যাক ফোন’ (২০২১)
গ্র্যাবার নামের এক মুখোশধারী সিরিয়াল কিলার অপহরণ করে এক কিশোরকে। শব্দরোধী একটি বেজমেন্টে আটকে রাখা হয় তাকে। সেখানে রয়েছে সংযোগ বিচ্ছিন্ন একটি কালো টেলিফোন। আশ্চর্যের বিষয়, ফোনটি বেজে উঠলে কিশোরটি শুনতে পায় খুনির আগের শিকারদের কণ্ঠস্বর। তারাই তাকে পালানোর পথ দেখানোর চেষ্টা করে।
ইথান হক অভিনীত সিনেমাটি জো হিলের একটি ছোটগল্প অবলম্বনে নির্মিত। রহস্য, অপরাধ ও অতিপ্রাকৃত আতঙ্কের মিশেলে তৈরি ছবিটি হ্যালোইনের জন্য উপযুক্ত। এটি বানিয়েছেন স্কট ডেরিকসন।
শুটিংয়ে ভূতের মুখোমুখি, হ্যালোইনে জানুন ভয়ংকর অভিজ্ঞতার গল্প
‘ক্রিমসন পিক’ (২০১৫)
গিয়ের্মো দেল তোরোর সিনেমাটিতে দেখা যায়, এক তরুণ আমেরিকান নারী বিয়ে করেন রহস্যময় এক ইংরেজ অভিজাত ব্যক্তিকে। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে চলে যান তাঁর পুরোনো পারিবারিক প্রাসাদে। কিন্তু বাড়িটির ভেতরে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর সব রহস্য। সেখানে অশরীরী উপস্থিতি যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে স্বামীর পরিবারের অন্ধকার অতীত।
টম হিডলস্টন, মিয়া ওয়াসিকোস্কা ও জেসিকা চ্যাস্টেইন অভিনীত সিনেমাটি প্রচলিত হরর সিনেমার চেয়ে কিছুটা আলাদা। গথিক আবহ, রহস্যময় প্রাসাদ ও বিষাদমাখা প্রেমের গল্প ছবিটিকে বিশেষ করে তুলেছে।