বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও রপ্তানির বিদ্যমান ব্যবধান কমানো এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বৈঠকে ভারতের সঙ্গে স্থলবন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্যচুক্তির বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে পায়রা স্থলবন্দরে বিদেশি জাহাজ আসার সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।
আজ রোববার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও রপ্তানি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় দুই দেশের মধ্যে রপ্তানি বাণিজ্যের বিদ্যমান ব্যবধান, বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা এবং এ ক্ষেত্রে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থলবন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্যচুক্তিগুলোর বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরেন।
স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে বর্তমানে ২১টি স্থলবন্দর রয়েছে। যার মধ্যে কার্যক্রম চালু আছে ১৭ টির।
উপস্থাপিত সামগ্রিক আমদানি-রপ্তানির হিসাবে বলা হয়—২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট আমদানি হয়েছ ১ কোটি ৫২ লাখ ৮৬ হাজার ৬০৬ টন পণ্য। রপ্তানি হয়েছে ১২ লাখ ৭২ হাজার ৩২৮ টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখ ১২ হাজার ৫৪৭ টন ও রপ্তানি ৯ লাখ ৬৫ হাজার ১৮৯ টন। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আমদানি হয়েছে ৩৯ লাখ ৮৬ হাজার ২২৩ টন এবং রপ্তানি হয়েছে ৩ লাখ ১৫ হাজার ৩৩৮ টন পণ্য।
একই অর্থবছরগুলোতে স্থলবন্দর দিয়ে যাতায়াতের হিসাবে জানানো হয়—২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্থলবন্দর দিয়ে ৯ লাখ ১৫ হাজার ৯৭২ যাত্রী আগমন করেছেন এবং ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৩৯২ যাত্রী যাত্রা করেছেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবেশ করে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৭৫৪ যাত্রী এবং ৫ লাখ ৪৬ হাজার ১২৫ যাত্রী বাইরে যান। চলতি অর্থবছরের তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৫ যাত্রীর প্রবেশ এবং ১ লাখ ৮৮ হাজার ২৯৮ জন যাত্রী বহির্গমন করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তবে কোন স্থলবন্দর দিয়ে কতজন যাত্রী আসা-যাওয়া করেছে সেটি প্রতিবেদনে বলা হয়নি।
এ ছাড়া পায়রা স্থলবন্দরের প্রতিবেদনে বলা হয়, পায়রা স্থলবন্দরে বিদেশি জাহাজ আসার সংখ্যা কমছে। ২০২২–২৩ অর্থবছরে এই বন্দরে বিদেশি জাহাজ এসেছিল ১১১টি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিদেশি জাহাজ আসে ১২৩টি। এর পরের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদেশি জাহাজ আসে ৮৫টি। এবং সর্বশেষ গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এসেছে মাত্র ২৯টি বিদেশি জাহাজ।
বৈঠকে কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়নকাজ শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভাপতি জয়নুল আবদিন ফারুকের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, হাফিজ ইব্রাহিম, আনিছুর রহমান, সাঈদ আহমেদ, সানজিদা ইয়াসমিন, নাজমুল হুদা এবং আবদুল হান্নান মাসউদ।