একসময় স্প্রিন্টের ট্র্যাকে ঝড় তুলতেন। তবে এখন অসুস্থতার কারণে দিনের ২২ ঘণ্টাই কাটে বিছানায় শুয়ে। মাইয়্যালজিক এনসেফালোমাইয়েলাইটিস (এমই) বা ক্রনিক ফ্যাটি সিন্ড্রোমে রোগে ভুগছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক স্প্রিন্টার বেথ ডবিন। এ রোগের গবেষণায় সরকারি তহবিল ও ডবিনের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের দাবিতে ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন সাড়ে তিনশ’ জনেরও বেশি বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ। অলিম্পিক পদকজয়ী স্প্রিন্টার দিনা অ্যাশার-স্মিথ, টম ডালি থেকে শুরু করে এভারটন কোচ ডেভিড ময়িস, ইউএস ডব্লিউএনটি কোচ এমা হেইস এবং চেলসির সাবেক তারকা মিলি ব্রাইটের মতো তারকারা এ চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন।
অবসরপ্রাপ্ত বৃটিশ স্প্রিন্টার ৩২ বছর বয়সী বেথ ডবিন সম্প্রতি বিবিসি স্পোর্টসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, প্রাণঘাতী এমই রোগের কারণে তাকে দিনে প্রায় ২২ ঘণ্টার বেশি সময় বিছানায় কাটাতে হয়। কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা বা নিরাময়ের উপায় না থাকা এই রোগে যুক্তরাজ্যে বর্তমানে অফিসিয়ালি চার লাখ মানুষ আক্রান্ত, কিন্তু প্রকৃত সংখ্যাটা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে বলে ধারণা। অনেকে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারলেও অনেকের ক্ষেত্রেই সার্বক্ষণিক দেখাশোনা ও নলের মাধ্যমে খাবার দেয়ার প্রয়োজন পড়ে।
প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে গবেষকদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমতার ভিত্তিতে তহবিল বরাদ্দের দাবি জানানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বৃটেন সরকারের তহবিল থেকে পার্কিনসনস রোগের জন্য ৭ কোটি ৯১ লাখ এবং ডিমেনশিয়ার জন্য প্রায় ৪৯ কোটি ৬৪ লাখ পাউন্ড বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে এমই গবেষণার জন্য বরাদ্দ দেয়া মাত্র ৬৬ লাখ পাউন্ড। পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে এই রোগের কোনো অনুমোদিত চিকিৎসাও তৈরি হয়নি।
শারীরিক চরম অসুস্থতা সত্ত্বেও নিজের দীর্ঘশ্বাস ও যন্ত্রণার কথা প্রকাশ্যে আনেন ডবিন। সাক্ষাৎকারের পর থেকে তার শরীরে অনেক খারাপ দিন গেছে এবং সপ্তাহে মাত্র একবার গোসল করার মতো শক্তি তিনি পেয়েছেন। তবে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার মানুষের সমর্থন তাকে অভিভূত করেছে। ডবিন আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার সতীর্থ ও এতগুলো মানুষের সমর্থন প্রমাণ করে যে, এই উপেক্ষিত জনগোষ্ঠী পরিবর্তন চায়। আশা করি প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা শুনবেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।’
‘ThereForME’ চ্যারিটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা কারেন হারগ্রেভ বলেন, ‘সরকাররা বরাবরই এমই আক্রান্তদের হতাশ করেছে। আমরা আশা করি বর্তমান সরকার বেথ ডবিনের সঙ্গে বৈঠক করবে এবং গবেষণার তহবিল ঘাটতি দূর করতে এগিয়ে আসবে।’
বৃটিশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই মারাত্মক রোগ মোকাবিলায় তারা জিনগত গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মতো আধুনিক উদ্যোগে সহায়তা চালিয়ে যাচ্ছে। ক্রীড়াবিদদের এই জোরালো দাবি এমই রোগীদের জীবনে নতুন আশার আলো দেখাবে বলেই বিশ্বাস সংশ্লিষ্টদের।