Logo
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬  |  প্রিন্ট: বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
পরীমনিশিল্পীর সৌজন্যে

পরীমনি এখন কী করবেন

ডেস্ক রিপোর্ট।।

‘কাজের জায়গায়, সংসারজীবনে, সবকিছুর ওপরেই তো একটা চাপ। এসব তো হেনস্তা।’ নিজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এভাবেই বললেন আলোচিত ও সমালোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। তাঁর অভিযোগ, মামলাকে ঘিরে প্রচণ্ড হেনস্তার শিকার হচ্ছেন তিনি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার আদালতে যাবেন বলেও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় আজ বুধবার পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমানের আদালত।

এরপর প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান পরীমনি। মামলার কারণে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাপ পড়ছে বলে জানান এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘এই জীবনে যা হচ্ছে, এসব তো খুব একটা আরামের না। এখন যা হচ্ছে, তা হেনস্তাই। মামলা নিয়ে আমাকে প্রচণ্ড হেনস্তা করা হচ্ছে।’

মামলার তদন্ত নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন পরীমনি। তাঁর অভিযোগ, ঠিকঠাকভাবে তদন্ত হচ্ছে না। তদন্তটা ঠিকঠাক হওয়া দরকার। কথায়–কথায় পরীমনি প্রশ্ন রাখেন, ‘এটা কি তাহলে সারা জীবন চলবে?’ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তো জারি হলো, এখন তাহলে কী করবেন, জানতে চাইলে পরীমনি বলেন, ‘কালকে যাব আদালতে, যেহেতু পরোয়ানা জারি করে ফেলেছে। কিছুই তো করার নেই।’ পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, অ্যালার্জিজনিত সমস্যার কারণে আজ আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি পরীমনি। এ জন্য সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্র জানিয়েছে, আজ মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। বাদী আদালতে উপস্থিত হয়ে আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত পরীমনির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। ২০২২ সালের ৬ জুলাই ঢাকার আদালতে মামলাটি করেন নাসির উদ্দিন। মামলার এজাহারে বলা হয়, পরীমনি ও তাঁর সহযোগীরা অ্যালকোহলসেবী। সুযোগ বুঝে তারা বিভিন্ন নামীদামি ক্লাবে ঢুকে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না। পরীমনি তাঁর পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করে হয়রানির ভয় দেখান।

ল্যাংকাউই দ্বীপে শীত নাই! জানালেন পরীমনি

২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে ঢুকে দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে তাঁরা ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন। বাদী ও তাঁর সহযোগী শাহ শহিদুল আলম দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে যখন ক্লাব ত্যাগ করছিলেন, তখন পরীমনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাদী নাসির উদ্দিনকে ডাক দেন এবং তাঁদের সঙ্গে কিছু সময় বসার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে পরীমনি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাসির উদ্দিনকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য বাদীকে চাপ দেন। বাদী এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি বাদীকে গালমন্দ করেন। বাদী ও আসামিদের মধ্যে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে পরীমনি বাদীর দিকে একটি সার্ভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন এবং হাতে থাকা মুঠোফোনটিও ছুড়ে মারেন। এতে নাসির উদ্দিন মাথায় ও বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরীমনি ও তাঁর সহযোগীরা নাসির উদ্দিনকে মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়েছেন, ভাঙচুর করেছেন। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমনি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে মামলার আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

গত বছরের ২৬ জানুয়ারি দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত। এদিকে একই ঘটনায় পরীমনি সাভার থানায় বাদীসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেন।

‘একজন আমাকে ফ্লাইটে করে শিউলি ফুল পাঠিয়েছে’, মুগ্ধ পরীমনি

বর্তমানে ওই মামলা ঢাকার ৯ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমনি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে মামলার আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। গত বছরের ২৬ জানুয়ারি দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত। এদিকে একই ঘটনায় পরীমনি সাভার থানায় বাদীসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেন। বর্তমানে ওই মামলা ঢাকার ৯ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

আরও পড়ুন

  • প্রশংসা পাচ্ছেন আরশ ও সুনেরাহ্
  • প্রতিদিন চুমু খেতে হবে—সিনেমায় অদ্ভুত শর্ত
  • মিমের প্রথম সম্মানী পাঁচ হাজার টাকা, এখন কত নেন

প্রকাশক ও সম্পাদক: হাবিব রহমান

প্রিন্ট করুন