দিনের শুরুতে মাত্র ২৭ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। সেখান থেকে আমির জাঙ্গু ও কেভিন উইকহ্যাম জুটি গড়ে দলকে উদ্ধার করেন। তারা দু’জন মিলে ১৩১ রানের জুটি গড়েন। উইকহ্যাম ১৪৫ বল খেলে ৬১ রান করে আউট হন। আমির দিন শেষে সেঞ্চুরি করে অপরাজিত। দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ চার উইকেটে ২৩৫ রান। সংবাদ সম্মেলনে উইকহ্যামের দাবি, প্রথম ইনিংসে তাদের লক্ষ্য ৩৫০ বা ৪০০ রান করা। উইকহ্যামের ধারণা, উইকেটে একবার ব্যাটিং করতে পারলে রান তোলা যায়। সময়ের সঙ্গে উইকেটের অবনতি হবে বলেও ধারণা তার।
তবে প্রতিপক্ষের এই লক্ষ্যের কথা শুনে বাংলাদেশ দলের পেসার তাসকিন আহমেদ যেন ঠাট্টা করলেন। তাসকিন বলেন, ‘না, ও খুব এক্সাইটেড। আজকে ওর ডেব্যু হয়েছে, ডেব্যু হিসেবেও রান পেয়েছে। এজন্য খুব এক্সাইটেড, অনেক কিছু বলতে পারে।’
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে একজন পেসারের অভাব বোধ করেছেন তাসকিন। সকালে পিচ ও উইকেটের আর্দ্রতা কাজে লাগানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু পেসারের অভাবে সেটি পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি বলে দাবি তার। দলে বোলারদের ওপর চাপ বেড়েছে। স্পিনারদের ওপর ভরসা রাখলেও পেসারদের ভূমিকা তিনি স্বীকার করেছেন। দলে আরেকজন পেসার থাকলে বোলিং ইউনিটের সুবিধা হতো বলে মত তাসকিনের। তবে ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে জয়ের জন্য লড়াই করার কথা বলেন তিনি। তাসকিন বলেন, ‘আমার কাছেও পার্সোনালি ফিল হয়েছে আমার আরেকটা ফেলো ব্রাদার যদি ফাস্ট বোলার কেউ থাকতো টিমে এটা বোলিং ইউনিটের জন্য আরেকটু বেটার হতো। কিন্তু উইথ ডিউ রেসপেক্ট টিম ম্যানেজমেন্ট যেটাই যেভাবে টিম সিলেকশন করছে এটা নিয়ে আমাদের ফাইট করতে হবে জেতার জন্য।’ চোটের কারণে নাহিদ রানা দলের বাইরে আছেন। তার অভাব বোধ করছে দল। দলে পেস বোলারের সংখ্যা হাতে গোনা। তাই বোলারদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলানো হচ্ছে। এতে ইনজুরির ঝুঁকি কমে যায়। বিরতি ছাড়া খেললে ইনজুরির শঙ্কা বাড়ে। তখন রিদম ফিরে পেতে সময় লাগে।
তাসকিন বলেন, ‘আসলে দেখেন আমাদের এই হাতে গোনা চার পাঁচ জন বোলার ছাড়া এই মুহূর্তে কিন্তু বোলারও নাই। সামনে কিন্তু খেলাও অনেক। তো দেখা গেছে বোলিং লোড ঠিক রাখা ছাড়া যদি কেউ টানা খেলে ইনজুরি হইলেই কিন্তু বড় কোনো ইনজুরি হইলে লম্বা সময় বাইরে থাকলে আবার রিদমটা আসতে কিন্তু বেশ মুশকিল।’
টেস্ট ক্রিকেটে যেকোনো সময় ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়। বাংলাদেশ দল এই টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজছে। আফগানিস্তান সিরিজের পর এটি দলের তৃতীয় টেস্ট। আগের সিরিজে দল জয়ের দেখা পায়নি। দলের ফিল্ডিং নিয়েও কাজ চলছে। স্লিপ ও গালিতে ক্যাচ ধরার হার বেড়েছে বলে দাবি তাসকিনের। বোলাররা নিজেদের মধ্যে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছেন। সকালে পিচের সুবিধা কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে অলআউট করার পরিকল্পনা রয়েছে দলের। ম্যাচ জিততে হলে ব্যাটিং ও বোলিংয়ে নজর দিতে হবে। চাপের মধ্যে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ধরে রাখা দলের জন্য প্রয়োজন। তাসকিন বলেন, ‘এটা কাল খেলা (আজ) তো শুরু হইলো তো এমনও হইতে পারে ওরা ৪৫০ করতে পারে কালকে এক ঘণ্টায় ৫০ রানে অলআউট হতে পারে। সো এটাই মজা টেস্ট ক্রিকেটের।’