Logo
প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬  |  প্রিন্ট: রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে কর্মরত প্রশিক্ষকদের সঙ্গে এক বিশেষ দিকনির্দেশনামূলক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

প্রশিক্ষকদের আদর্শিক নেতৃত্ব ও দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আনসার মহাপরিচালকের

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আরও দক্ষ, জনকেন্দ্রিক ও উৎপাদনশীল হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষকদের আদর্শিক নেতৃত্ব, পেশাগত দক্ষতা এবং প্রশিক্ষণের গুণগত মান বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

মহাপরিচালক বলেছেন, প্রশিক্ষকদের নিজেদের যোগ্যতা ও নৈতিক আদর্শের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের সামনে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে প্রশিক্ষকদেরও সুপ্রশিক্ষিত ও দক্ষ হতে হবে।

আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে কর্মরত প্রশিক্ষকদের সঙ্গে এক বিশেষ দিকনির্দেশনামূলক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মহাপরিচালক আরও বলেন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় পরিহার করে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, ব্যবহারিক দক্ষতা ও আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে অভিভাবকসুলভ সম্পর্ক গড়ে তুলে আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একজন আদর্শ প্রশিক্ষকের সার্থকতা হলো নিজের চেয়েও দক্ষ ও আদর্শবান জনবল তৈরি করা।

বাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, পিটি, ড্রিল ও অস্ত্রচালনা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সময়োপযোগী কারিগরি, কর্মমুখী ও পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একাডেমিতে ৬জি ওয়েল্ডিং, মেসন, শাটারিং, মোটর ড্রাইভিং, জাপানি ভাষা ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল রক্ষণাবেক্ষণবিষয়ক প্রশিক্ষণও পরিচালিত হচ্ছে।

তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সহায়ক হবে। দেশের বিশাল যুবসমাজকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তর করা সময়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জনকেন্দ্রিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, বাহিনীটি দেশের সামাজিক উন্নয়ন, গ্রামীণ অগ্রগতি ও আর্থসামাজিক সমৃদ্ধিতে অবদান রেখে চলেছে। ১৯৭৬ সালে গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) গঠনের মধ্য দিয়ে বাহিনীর কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত হয়। এরপর থেকে সামাজিক দায়বদ্ধতা, স্বেচ্ছাশ্রম ও নিঃস্বার্থ জনসেবার মাধ্যমে সদস্যরা বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখছেন।

বাহিনীর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে মহাপরিচালক বলেন, ‘আমাদের সদস্যরা এক হাতে অস্ত্র ধারণ করে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, অন্য হাতে অংশ নেবে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে।’

তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ প্রতিরোধে সদস্যদের সতর্ক ও সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেন তিনি। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া, তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে জনগণের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বাহিনীর মহাপরিচালক।

মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক ও বহুমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে ওঠা দক্ষ জনশক্তি দেশের নিরাপত্তা, উৎপাদনশীলতা ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে সদস্যদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতেও সহায়ক হবে।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ, একাডেমির কমান্ড্যান্ট ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. সাইফুল্লাহ রাসেলসহ বাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিষয়:

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

আরও পড়ুন

  • জাপান সফরে স্ত্রী জুবাইদা রহমানসহ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী যাঁরা
  • শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা যেন তাদের আচরণের কারণে নষ্ট না হয়: অ্যাটর্নি জেনারেল
  • সৌদিতে ২ বাংলাদেশির শিরশ্ছেদের ঘটনার তথ্য চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

প্রকাশক ও সম্পাদক: হাবিব রহমান

প্রিন্ট করুন