Logo
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬  |  প্রিন্ট: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে গতকাল মালয়েশিয়া প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা শুরু হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া আলোচনা: মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে দুই দেশ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

• ২০২৭ সালের মধ্যে এফটিএ চূড়ান্তের লক্ষ্য।

• শুল্ক ছাড় ও বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্ব।

• পণ্য ও সেবা বাণিজ্যে বাধা কমানোর উদ্যোগ।

২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৮৪ কোটি মার্কিন ডলার। এই বাণিজ্য আরও বাড়ানো, নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে এবার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করতে যাচ্ছে দুই দেশ। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে ঢাকায়।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এ চুক্তির গুরুত্ব শুধু শুল্ক কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও সেবা বাণিজ্যে বাধা কমানো, বাজারে পরস্পরের প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো এবং বিনিয়োগের পরিবেশ সহজ করার পথ তৈরি হতে পারে। তবে চুক্তির বাস্তব সুফল নির্ভর করবে কোন কোন পণ্যে শুল্ক ছাড় মিলবে, সেবা খাতে কী সুবিধা পাওয়া যাবে এবং দুই দেশ নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থ কতটা নিশ্চিত করতে পারবে তার ওপর।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী প্রথম দফার আলোচনা শুরু হয়। উদ্বোধন করেন বাণিজ্যসচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। আলোচনার কার্যপরিধি নির্ধারণে দুই দেশের প্রতিনিধিরা ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ (টিওআর) স্বাক্ষর করেন। মালয়েশিয়ার ৩১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ। বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও চিফ নেগোশিয়েটর খাদিজা নাজনীন।

চুক্তির সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল বাণিজ্য, লজিস্টিকস এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ বিনিয়োগের কথা তুলে ধরেন বাণিজ্যসচিব। তাঁর মতে, এসব খাতে সহযোগিতা বাড়লে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বহুমুখী হতে পারে।

মালয়েশিয়ার চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তি শুধু শুল্ক কমানোর বিষয় নয়; এটি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার উদ্যোগ। পারস্পরিক সমঝোতা ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে আলোচনা শেষ করার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।

বাংলাদেশের চিফ নেগোশিয়েটর খাদিজা নাজনীন বলেন, চুক্তি কার্যকর হলে দুই দেশের বাজারে প্রবেশ সহজ হবে, বাণিজ্য বাধা কমবে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আলোচনায় উভয় দেশের প্রতিনিধিরা গঠনমূলক সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নমনীয়তার ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পৌঁছানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, রুলস অব অরিজিন বা পণ্যের উৎপত্তিবিধি এবং শুল্ক প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের স্বার্থরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়। প্রথম দফার আলোচনা চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত।

বিষয়:

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

আরও পড়ুন

  • ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: জয়-পরাজয়ের নিয়ামক হতে পারে হিন্দু ভোটার
  • বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
  • ১০ পরিবারের ৭টিতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া

প্রকাশক ও সম্পাদক: হাবিব রহমান

প্রিন্ট করুন