আজ সোমবার (২ নভেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য গবেষণা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শুধু কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক হলে চলবে না। শিক্ষকতা ও গবেষণায় আগ্রহীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে এসএসসি ও এইচএসসি উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়মুখী না করে কর্মসংস্থানভিত্তিক, দক্ষতানির্ভর ও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের বড় একটি অংশের জনশক্তি শিক্ষিত বেকারত্বের শিকার। শুধু সনদ অর্জনের মাধ্যমে একটি জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়; শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন প্রয়োজন। আগামী দিনের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, মেধা ও গবেষণানির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার বিকল্প নেই।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি উত্থাপন করেছিলেন শহীদ নাসিরউদ্দিন পিন্টুসহ তৎকালীন ছাত্রনেতারা। পরবর্তী সময়ে ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর বিষয়টি আবারও উত্থাপিত হয়। পরে জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে আগের সরকারের জনকল্যাণমূলক অনেক কাজের ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্ত হয়। তবে দেশের স্বার্থে একটি সরকারের শুরু করা ভালো কাজ পরবর্তী সরকারগুলোরও অব্যাহত রাখা উচিত। দেশের উন্নয়ন ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেরানীগঞ্জে প্রায় ২০০ একর জমির ওপর আবাসিক সুবিধাসহ নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিকল্পনার কথা তিনি জানতে পেরেছেন। শিক্ষার্থীদের আবাসনসহ বিভিন্ন দাবির বিষয়েও তিনি অবগত হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়াকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, দাবির নামে অপ্রাসঙ্গিক আন্দোলন করা উচিত নয়। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় যথাসময়ে দাবিগুলো পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরে বাংলাদেশকে কোথায় দেখতে চান, সেই লক্ষ্য সামনে রেখে এখন থেকেই তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত করার আহ্বান জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, তরুণদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারে।
বক্তব্যের শেষাংশে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে ঐক্য বজায় রাখতে হবে। দেশের স্বার্থকে সবার আগে রেখে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।