Logo
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬  |  প্রিন্ট: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
মৌসুমীছবি : প্রথম আলো

মৌসুমী বললেন, ‘আমি দেশের একমাত্র নায়িকা, যাঁর বয়স সবাই জানে’

ডেস্ক রিপোর্ট।।

আজ ৩ নভেম্বর চিত্রনায়িকা মৌসুমীর জন্মদিন। ১৯৭৩ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর বয়স এখন ৫৩ বছর। তবে বয়স নিয়ে তাঁর ভাবনা বরাবরই সহজ। তাঁর ভাষায়, বয়স কেবল একটি সংখ্যা; মনের বয়স না বাড়লেই হলো। জন্মদিনে তাই বয়সের হিসাবের চেয়ে তাঁর অনুরাগীদের আগ্রহ—কেমন আছেন মৌসুমী, কবে ফিরছেন দেশে, আবার কবে দেখা যাবে পর্দায়?

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন মৌসুমী। ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক। প্রথম ছবিতেই নায়ক হিসেবে পেয়েছিলেন সালমান শাহকে। ছবিটি মুক্তির পর দুজনই রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান। এরপর ‘অন্তরে অন্তরে’সহ বেশ কয়েকটি ছবিতে তাঁদের জুটি দর্শকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

তবে সালমান শাহর পাশাপাশি ওমর সানীর সঙ্গেও মৌসুমীর জুটি ঢালিউডে আলোচিত হয়। ‘দোলা’সহ বিভিন্ন ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করতে গিয়ে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ে করেন তাঁরা। পর্দার জনপ্রিয় জুটি হয়ে ওঠেন বাস্তব জীবনের সঙ্গী। তাঁদের সংসারে দুই সন্তান—ছেলে ফারদীন এহসান স্বাধীন ও মেয়ে ফাইজা আবিহা।

অভিনয়ের পাশাপাশি মৌসুমী গান গেয়েছেন, চলচ্চিত্র পরিচালনা ও প্রযোজনাও করেছেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অভিনয় করেছেন অসংখ্য ব্যবসাসফল ছবিতে। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রীর সম্মান। নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় নায়িকাদের অনেকেই নিয়মিত অভিনয় থেকে দূরে সরে গেলেও মৌসুমী দীর্ঘদিন নানা ধরনের চরিত্রে কাজ করেছেন।
জন্মদিন ও বয়স প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রসিকতা করে মৌসুমী বলেছিলেন, ‘দেশের একমাত্র নায়িকা, যার বয়স সবাই জানে, সেটা হলো মৌসুমী।’ তিনি মনে করেন, যত দিন দায়িত্ববোধ থাকবে, তত দিন কাজ করে যেতে চান। বয়সের সঙ্গে মনের চঞ্চলতা হারিয়ে ফেলতেও রাজি নন এই অভিনেত্রী।

তবে তিন বছর ধরে দেশের বাইরে রয়েছেন মৌসুমী। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি। সেখানে মেয়ে ফাইজার পড়াশোনার দেখভালের পাশাপাশি অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ও পরিচর্যার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। সম্প্রতি দীর্ঘ অপেক্ষার পর যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন তিনি। ফলে দেশে আসা–যাওয়ার ক্ষেত্রে আগের জটিলতা আর থাকছে না।

তবু দেশে ফিরতে পারছেন না মৌসুমী। কারণ, তাঁর অসুস্থ মা এখন একা চলতে পারেন না। কখনো নিজে হাঁটতে পারেন, আবার পরদিনই অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে থাকেন। মায়ের স্মৃতিভ্রংশের সমস্যাও রয়েছে। জীবনের ব্যস্ত সময়ে মাকে যতটা সময় দিতে পারেননি, এখন সেই অপূর্ণতা পূরণ করছেন অভিনেত্রী।

প্রথম আলোকে মৌসুমী বলেছেন, ‘একটা সময় তো আম্মাকে সময় দিতে পারিনি, এখন দিচ্ছি।’ মাকে ধীরে ধীরে শিশুর মতো হয়ে যেতে দেখছেন তিনি। জীবনের এই পর্যায়ে মায়ের পাশে থাকতে পারাকেই আনন্দ ও ভালো লাগার বিষয় বলে মনে করেন।
যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও অভিনয় থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন হননি মৌসুমী। সেখানে ‘কন্ট্যাক্ট ম্যারেজ’ নামের একটি টেলিফিল্মের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন। পরে সেটি বাংলাদেশে চলচ্চিত্র হিসেবে মুক্তি পায়। তবে নতুন কোনো ছবি কিংবা নিয়মিত অভিনয়ে ফেরার বিষয়ে এখনো ঘোষণা দেননি তিনি।

মৌসুমী–ওমর সানীর দুই সন্তান কে কোথায়, কী করছেন

মৌসুমীর পরিবারের সদস্যরা এখন তিন দেশে। মেয়ে ফাইজা তাঁর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। বাংলাদেশে ও লেভেল ও এ লেভেল শেষ করে নিউইয়র্কে কসমেটোলজি নিয়ে পড়াশোনা করছেন তিনি। বড় ছেলে ফারদীন থাকেন দুবাইয়ে; সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। একসময় পড়াশোনার পাশাপাশি নির্মাণ ও প্রযোজনায় আগ্রহী ছিলেন তিনি। তবে এখন আর সেই কাজে নেই।
স্বামী ওমর সানী বাংলাদেশে থেকে পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করছেন। দূরত্ব থাকলেও ভিডিওকলে নিয়মিত যোগাযোগ হয় পরিবারের সবার। সন্তানদের পেশা বা জীবন নিয়ে কখনো নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেননি মৌসুমী ও ওমর সানী। সন্তানদের নিজেদের পছন্দের পথে এগিয়ে যাওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের চাওয়া, ফারদীন ও ফাইজা নিজেদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি মানুষের উপকারে আসুক।

অভিনয়জীবনের বাইরে মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্নও রয়েছে মৌসুমীর। নিজের নামে গড়া কল্যাণ ফাউন্ডেশনকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে চান। তাঁর আরেকটি স্বপ্ন একটি বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠা করা। এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, কাজটি নিজে শেষ করতে না পারলেও ভবিষ্যতে কেউ না কেউ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবেন—এমন বিশ্বাস তাঁর রয়েছে।

আরও পড়ুন

  • প্রতিদিন লাখ লাখ ভিউ! বিশ্বজুড়ে ঝড় তুলেছে সম্পর্কের গল্প
  • ফোনে ৫ কোটি রুপি চাঁদা দাবি বলিউড তারকার কাছে
  • ৬৭ হাজার টাকা নিয়ে শহরে এসেছিলেন, এখন ২০ কোটি টাকার মালিক

প্রকাশক ও সম্পাদক: হাবিব রহমান

প্রিন্ট করুন