ছবির এই দুজনকে চিনতে পারছেন? জনপ্রিয় অভিনেতা–অভিনেত্রী
ছবির এই দুজনকে চিনতে পারছেন? জনপ্রিয় অভিনেতা–অভিনেত্রী
0:00 0:00

ছবির এই দুজনকে চিনতে পারছেন? জনপ্রিয় অভিনেতা–অভিনেত্রী

বিনোদন
ছবির এই দুজনকে চিনতে পারছেন? জনপ্রিয় অভিনেতা–অভিনেত্রী
নিউজ ডেস্ক
২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৩২ এএম

পাশাপাশি বসে আছেন দুই তরুণ–তরুণী। ছেলেটির পরনে হালকা রঙের শার্ট, চুল কিছুটা এলোমেলো। কালো পোশাকের মেয়েটির মুখে মৃদু হাসি। আজকের পরিচিত চেহারার সঙ্গে মিল খুঁজতে হয়তো একটু সময় লাগবে। তবে নাটকের নিয়মিত দর্শকেরা ভালো করে তাকালেই চিনে ফেলবেন। বলুন তো, ছবির এই দুজন কে?
তাঁরা অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব ও অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া। ছবিটি শেয়ার করেছেন স্পর্শিয়া। আজ মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর তৌসিফের জন্মদিন। সেই উপলক্ষে ছবিটি সামনে রেখে ফিরে দেখা যাক তাঁর অভিনয়ে আসা, বন্ধুত্ব আর পর্দার বাইরের জীবনের কিছু গল্প।

শুরুর দিনের সহযাত্রী
তৌসিফ ও স্পর্শিয়ার বিনোদনজগতে পথচলা শুরু কাছাকাছি সময়ে। শুরুর দিকে ধারাবাহিক ও একক নাটকে একসঙ্গে অনেক কাজ করেছেন তাঁরা। সেই সূত্রে পর্দার বাইরেও গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। তবে স্পর্শিয়া দীর্ঘ সময় নাটক থেকে দূরে থাকায় তাঁদের একসঙ্গে কাজেও বিরতি পড়ে। পরে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’–এর পঞ্চম মৌসুমে আবার একসঙ্গে দেখা যায় তাঁদের। এ বছরের এপ্রিলে প্রায় এক দশক পর হাসিব হোসেন রাখির পরিচালনায় একটি একক নাটকেও জুটি বাঁধেন দুজন।

গত এপ্রিলে এক সাক্ষাৎকারে স্পর্শিয়া বলেছিলেন, ‘অভিনয়শিল্পী হিসেবে আমরা একসঙ্গে বেড়ে উঠেছি।’ দীর্ঘ বিরতির পরও সহশিল্পী হিসেবে তাঁদের বোঝাপড়ায় সমস্যা হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে দুজন আরও পেশাদার হয়েছেন বলে মনে হয়েছে তাঁর। তৌসিফও জানিয়েছিলেন, পর্দার বাইরের বন্ধুত্বের কারণে স্পর্শিয়ার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ভালো।
স্পর্শিয়ার শেয়ার করা ছবিটি সেই শুরুর দিনগুলোর কথাই মনে করিয়ে দেয়। তবে ছবিটি ঠিক কবে, কোথায় তোলা, তা জানা যায়নি।

প্রেমের গল্প থেকে ভিন্ন চরিত্রে
রোমান্টিক নাটকে পরিচিতি তৈরি হলেও তৌসিফ নিজেকে সেই গণ্ডিতে আটকে রাখেননি। ভিকি জাহেদ পরিচালিত ‘কাজলের দিনরাত্রি’, ‘দেয়াল’, ‘দ্য রিং’ ও ‘শব্দপ্রেম’–এ তাঁকে ভিন্ন ধরনের চরিত্রে দেখা গেছে। বিশেষ করে ‘শব্দপ্রেম’–এর অন্তর্মুখী তরুণের চরিত্রটি তাঁর নিজের স্বভাবের চেয়ে আলাদা ছিল। বাস্তবে মিশুক হওয়ায় চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলা তাঁর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল।
কাজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও এখন আগের চেয়ে বেশি সময় নিচ্ছেন তৌসিফ। প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, একসময় অনেক কাজ করার ব্যস্ততা ছিল। এখন কাজের সংখ্যা কমিয়ে প্রতিটি চরিত্রে বেশি সময় ও মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন। কতটি কাজ করলেন, তার চেয়ে চরিত্রটি তাঁকে কতটা নতুনভাবে তুলে ধরল, দর্শকের মনে কতটা জায়গা পেল—সে সবই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ওটিটিতে নতুন অধ্যায়
নাটকের পাশাপাশি ওটিটিতেও কাজের পরিসর বাড়ছে তৌসিফের। ২০২৪ সালে ভিকি জাহেদ পরিচালিত ‘চক্র’ দিয়ে এই মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন তিনি। পরে অভিনয় করেন ‘চক্র ২’–এ। একই নির্মাতার নতুন সিরিজ ‘প্রাণভোমরা’তেও যুক্ত হয়েছেন। আইস্ক্রিনের জন্য নির্মিতব্য এই সিরিজে তাঁর সহশিল্পী শ্রেয়সী শ্রেয়া। প্রেমের গল্পের সঙ্গে পুরাণনির্ভর রহস্যের সংমিশ্রণ থাকছে এতে।
ওয়েব চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন তৌসিফ। শিহাব শাহীন পরিচালিত ‘ক্যাফে আমব্রেলা’য় তাঁকে দেখা যাবে পাইলটের চরিত্রে। এই কাজের শুটিংয়ে পাইলটের পোশাকে বিমানবন্দরে হাজির হয়ে কৌতূহলও তৈরি করেছিলেন তিনি। সম্পর্ক, ভালোবাসা ও আবেগের একাধিক গল্প পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চলচ্চিত্রটিতে। তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছেন নতুন প্রজন্মের শিল্পীরাও।

অভিনয়ের আগে গানের দল
অভিনেতা হওয়ার আগে গানের দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তৌসিফ। ‘ম্যানেজার’ নামের একটি ব্যান্ডে বেজ গিটার বাজাতেন। পাশাপাশি সামলাতেন দলের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও। সংগীতের সেই জগৎ থেকে ক্যামেরার সামনে আসার পথে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে আদনান আল রাজীবের সঙ্গে পরিচয়।
তবে অভিনয়ের শুরুটা সহজ ছিল না। মঞ্চে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল না, অভিনয়ের কৌশল সম্পর্কেও জানাশোনা ছিল সীমিত। সিনেমা দেখে অভিনয় শেখার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন তৌসিফ। কাজ করতে করতেই শিখেছেন চরিত্রের স্বভাব ও মানসিকতা ধারণ করার কৌশল।

কাজের বাইরে পরিবার
ব্যক্তিজীবনে ২০১৮ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জান্নাতুল ফেরদৌস জারাকে বিয়ে করেন তৌসিফ। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের দাম্পত্যের আট বছর পূর্ণ হয়েছে। বিয়ের আগে প্রায় সাড়ে তিন বছরের প্রেম ছিল তাঁদের। অভিনয়জীবনের নানা সিদ্ধান্তেও জারার পরামর্শ নেন তৌসিফ। কোন নাটকটি করা উচিত, কাজের প্রচার কীভাবে হতে পারে কিংবা ক্যারিয়ারের জন্য কোন সিদ্ধান্ত ভালো হবে—এসব নিয়ে দুজনের আলোচনা হয় বলে আগে প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন তিনি।
সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারেও তৌসিফের কথায় উঠে এসেছে পরিবারের গুরুত্ব। শুটিং ও চিকিৎসার প্রয়োজনে থাইল্যান্ড সফরে স্ত্রীও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। অবসর পেলে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি ঘরের ছোটখাটো দায়িত্বও পালন করেন তৌসিফ। তাঁর কাছে সেগুলো বাড়তি কোনো কাজ নয়; পরিবারের একজন হিসেবে স্বাভাবিক দায়িত্ব। ব্যস্ততার মধ্যে এই সাধারণ কাজগুলোই তাঁকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনে। তাঁর ভাষায়, ‘কারণ, দিন শেষে পরিবারই সব।’