সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে মালিক-প্রশাসনসহ সবার দায়িত্ব নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে মালিক-প্রশাসনসহ সবার দায়িত্ব নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর
0:00 0:00

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে মালিক-প্রশাসনসহ সবার দায়িত্ব নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

বাংলাদেশ
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে মালিক-প্রশাসনসহ সবার দায়িত্ব নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। ছবি: আজকের পত্রিকা

নিউজ ডেস্ক
২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৫২ এএম

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে শুধু চালককে দায়ী না করে পরিবহন মালিক, শ্রমিক, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর দায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এবারের প্রতিপাদ্য, ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনা ঘটলে সাধারণত চালককে দায়ী করা হয়। কিন্তু চালক ঠিকমতো বেতন পাচ্ছেন কি না, তাঁকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করানো হচ্ছে কি না, তাঁর কর্মপরিবেশ কেমন এবং মালিকেরা দায়িত্ব পালন করছেন কি না, সেসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, চালকেরা প্রশাসনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন কি না, তা-ও দেখতে হবে। ‘এখানে কেউ কারও প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, কেউ কারও শত্রু নয়। আমরা সবাই এই দেশকে ভালোবাসি। এ দেশের মানুষের প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধ রয়েছে।’

পরিবহন মালিকদের উদ্দেশে হাবিবুর রশিদ বলেন, অতিরিক্ত লাভের আশায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি সড়কে নামানো যাবে না। এতে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি মালিকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। সরকারকে যানবাহনের ফিটনেস ও কাগজপত্র ঠিক রাখতে গিয়ে মালিকেরা যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও চালকদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ না করার আহ্বান জানিয়ে হাবিবুর রশিদ বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি হয়রানি বন্ধ এবং সরকারি দপ্তরগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

সড়ক নিরাপত্তায় অবকাঠামোগত ত্রুটি সংস্কার, দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিতকরণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং আইন প্রয়োগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।

পেশাদার চালকদের স্বাস্থ্য ও চোখ পরীক্ষা, মানসম্মত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা যাচাই করে লাইসেন্স প্রদান এবং যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি। বেপরোয়া গতি, মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন হাবিবুর রশিদ।

দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। শুধু সড়ক নির্মাণ নয়, মানুষ যাতে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, সে ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।

সাংবাদিক ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সামাজিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা চেয়ে হাবিবুর রশিদ বলেন, ভুলত্রুটি তুলে ধরার পাশাপাশি সমাধানের পরামর্শও দিতে হবে। সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে পরিবহন মালিক, শ্রমিক, চালক, যাত্রী, পথচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব।

বিষয়:

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত