নিজ কার্যালয়ে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধর, অভিযোগ ড্যাব কর্মীদের বিরুদ্ধে
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিরের কক্ষে ঢুকে এক দল ব্যক্তি তাঁকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীরা তাঁকে মারধর করেছেন। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
অধ্যাপক জাকিরকে মারধর করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, অধ্যাপক জাকির নিজ কক্ষে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করছেন। এ সময় কয়েকজন হঠাৎ কক্ষে ঢুকে তাঁকে চেয়ার থেকে টেনে তুলে মারধর শুরু করেন। ওই কক্ষে থাকা ব্যক্তিরা বাধা দিলে তাঁরা বেরিয়ে যান।
বিএনপি সরকারের আমলে আইইডিসিআরের পরিচালক পদে নিয়োগ পান অধ্যাপক জাকির। নিজ কার্যালয়ে ড্যাব সদস্যরা মব সৃষ্টি করে তাঁকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ করলেও কেন তাঁকে মারধর করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ড্যাব মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল সাংবাদিকদের বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয়ে জিজ্ঞেস করার জন্য ড্যাবের কর্মীরা সেখানে গিয়েছিলেন। মারধরের সত্যতা পেলে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
‘চিকিৎসা সেবার ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিজ অফিসে মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার সঙ্গে কাজী আহমেদের একটি বৈঠকের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সেখানে যান ড্যাব সদস্যরা। মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর; রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ছিলেন।
কার্যালয়ে অধ্যাপক জাকিরকে মারধরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তাঁর মতে, এটি বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবার ইতিহাসে এক ‘কালো অধ্যায়’।
আজ বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে শফিকুর রহমান লিখেন, ‘আইইডিসিআর-এ যে ঘটনা ঘটেছে, সমাজের একটি বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষিত সমাজেও যদি এই ধরনের মব স্পষ্ট দিবালোকে বেপরোয়াভাবে তৈরি করা হয়, তাহলে ভাবা যায় দেশ কোন পথে?’ বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীরা ‘মব’ সৃষ্টি করে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাড্ডা মেডিকেল সেন্টার ভাঙচুর ও লুটপাটের ক্ষত এখনো তাজা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সরকারি দলের চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের নেতা কর্মীরা আজকে যে ঘটনা ঘটালেন, তা বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবার ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় রচনা করলেন।’
জামায়াত আমির এই ঘটনাকে ‘সীমালঙ্ঘন, ধৃষ্টতা ও অপরাধমূলক কাজ’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি দাবি জানান, ‘এর সুষ্ঠু তদন্ত করে এর বিচার হতেই হবে। তা না হলে ভঙ্গুর স্বাস্থ্যসেবা কোনো অবস্থাতেই উঠে দাঁড়াতে পারবে না।’
আপনার মতামত লিখুন