এক লিটার দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকা
এক লিটার দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকা
0:00 0:00

এক লিটার দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকা

বাংলাদেশ
এক লিটার দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকা

প্রতীকী ছবি। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

নিউজ ডেস্ক
২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৩ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কমিটিকে বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন খরচ এবং সেগুলোর বিক্রয়মূল্য জানানো হয়। এতে দেখা যায়, উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রয়মূল্য অনেক বেশি।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কমিটিকে জানানো হয়, এক কেজি সোনালি মুরগির উৎপাদন খরচ ২৫৩ টাকা, ব্রয়লার মুরগির ১৬১ টাকা ৫৫ পয়সা, একটি ডিমের ১০ টাকা ৮১ পয়সা, এক লিটার দুধের ৪৪ টাকা ৮০ পয়সা, গরুর মাংসের ৫৮৭ টাকা ৫০ পয়সা এবং খাসির মাংসের ৮৭৫ টাকা।

কিন্তু খুচরা পর্যায়ে বাজারভেদে দেখা গেছে, আজ বুধবার সোনালি মুরগি প্রতিকেজি ৩০০-৩৫০ টাকা, ব্রয়লার প্রতিকেজি ১৮০-২০০ টাকা, ডিম ১২-১৩ টাকা, প্রতি কেজি দুধ, ১০০-১১০ টাকা, গরুর মাংস প্রতিকেজি ৭৮০-৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস প্রতি কেজি ১০০০-১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা মন্ত্রণালয়ের উৎপাদনের খরচের হিসাবে ভোক্তা পর্যায়ে অনেক বেশি।

এই পরিস্থিতিতে মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফা, কৃত্রিম সংকট এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ যাচাইয়ে বাজারভিত্তিক তদন্ত ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনার সুপারিশ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, এক দিনের বাচ্চা ও ডিমের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর মন্ত্রণালয়ে একটি কৌশলপত্র পাঠিয়েছে। ওই কৌশলপত্রের আলোকে বাজারে এক দিনের বাচ্চা ও ডিমের চাহিদা নিরূপণ করে উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

বৈঠকের পর সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদন বৃদ্ধি, ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ, ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠা, জলাশয়ে অভয়াশ্রম গড়ে তোলা, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে খামারিদের সহায়তা এবং বাজার তদারকির কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সামুদ্রিক মৎস্য অনুসন্ধান, মাছ আহরণ এবং রপ্তানির আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে কমিটিতে উপস্থাপনের সুপারিশও করা হয়।

এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব অধিদপ্তর ও সংস্থার চলমান নিয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পন্ন করার পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কমিটির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, শেখ মো. রেজাউল ইসলাম, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, এম এ হান্নান, আলী আজম, আবু বকর ও আমির হামজা। এ ছাড়া সভাপতির বিশেষ আমন্ত্রণে মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়:

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত