নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করলে জনগণের যাওয়ার জায়গা থাকে না: জাহেদ উর রহমান
নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করলে জনগণের যাওয়ার জায়গা থাকে না: জাহেদ উর রহমান
0:00 0:00

নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করলে জনগণের যাওয়ার জায়গা থাকে না: জাহেদ উর রহমান

বাংলাদেশ
নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করলে জনগণের যাওয়ার জায়গা থাকে না: জাহেদ উর রহমান

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: আজকের পত্রিকা

নিউজ ডেস্ক
৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০০ এএম

নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করলে সাধারণ নাগরিকের আর যাওয়ার জায়গা থাকে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা মানে তাঁদের অধিকারকেই অস্বীকার করা।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সেমিনার সিরিজ’-এর তৃতীয় পর্বে ‘তিয়াত্তরের নির্বাচন: ভোটচুরির আওয়ামী মডেলের সূচনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘তিয়াত্তরের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের হারার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। তবু তিনি ভোটে কারচুপি করেছিলেন। অন্যদিকে শেখ হাসিনা জানতেন, এমন একটি বিরোধী দল তার সামনে আছে, যাদের সঙ্গে ফেয়ার ইলেকশন করলে তিনি হারবেন। তাই ক্ষমতায় থাকার জন্য তিনি নির্বাচনগুলোকে কুক্ষিগত করেছিলেন। অথচ শেখ মুজিব জিতবেন জেনেও তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনটাকেই নষ্ট করেছিলেন।’

শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ববর্তী ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাকিস্তান আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান থাকলেও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনে ভোট কারচুপির মাধ্যমে তিনি গণতান্ত্রিক চর্চাকে ধ্বংস করেছিলেন।

আলোচক ও জাতীয় সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা বলেন, তিয়াত্তরের নির্বাচনে শেখ মুজিবের জনপ্রিয়তার কারণেই তাঁর সরকার গঠন সম্ভব ছিল। কিন্তু তাঁকে জেতাতে বাকেরগঞ্জ-৪ আসনে জাসদের প্রার্থী আজহার উদ্দিন আহমেদকে নির্বাচনের আগে অপহরণ করা হয়েছিল এবং ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে শেখ মুজিবকে জয়ী করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

মাহমুদা হাবীবা বলেন, মুক্তিযুদ্ধে লাখো মানুষের অবদানকে আওয়ামী লীগ একচ্ছত্রভাবে নিজেদের বলে দাবি করেছে। তিয়াত্তরের নির্বাচনেও সেই মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যায়। শেখ মুজিব সংসদে দাঁড়িয়ে দেশে কোনো বিরোধী দল নেই বলেছিলেন, আর শেখ হাসিনা প্রচার করে গেছেন, দেশে তাঁর কোনো বিকল্প নেই।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় আপত্তিগুলো নিয়ে আলোচনা হলেও সনদ স্বাক্ষরের সময় ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রাখা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের সময় রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে যে জুলাই সনদ করা হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদকে বেঁধে দিতে চেয়েছিল।

সেমিনারে মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান বলেন, স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমান তাজউদ্দীন আহমদকে সরিয়ে দিয়ে সরকারে যুক্ত হন। পরে সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সংবিধানের প্রথম পরীক্ষা জাতীয় নির্বাচনেই ব্যর্থতা দেখা দেয়। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদ বিরোধী দল ছাড়া গঠিত হয়েছিল, যা গণতন্ত্রের জন্য অসম্মানজনক।

সাঈদ খান বলেন, বঙ্গবন্ধু নিজে এসব করতে বলেননি—এমন যুক্তি দেওয়া হলেও নিজ দলের লোকজনের অপকর্ম ঠেকাতে না পারা এবং দলের লাগাম টেনে ধরতে না পারা তাঁর ব্যর্থতা।

আবু সাঈদ খান আরও বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে ভালো নির্বাচন না হওয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তা বাতিল করা হয়। এর ফলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান অনিবার্য হয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহ্‌সান মাহমুদ। তিনি বলেন, জাদুঘর এমন একটি পরিসর তৈরি করতে চায়, যেখানে ভিন্নমতের মানুষ একই মঞ্চে নিজেদের কথা তুলে ধরবেন। সবার বক্তব্য শুনে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া হবে না।

এহ্‌সান মাহমুদ বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সময়কালে রাষ্ট্রীয় নির্দেশে সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তখন দেশে একটি টেলিভিশন ও চারটি দৈনিক পত্রিকা ছিল, যেগুলো সরকার নিয়ন্ত্রিত ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। ওই সময়ে নির্বাচনের অনিয়ম ও তথ্য গোপনের বিভিন্ন ঘটনাও আলোচনায় তুলে ধরেন তিনি। এই সময়টার দেশের গণতান্ত্রিক সংকটের ইতিহাস পর্যালোচনা করা জরুরি। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার পথ নির্ধারণে এ ধরনের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ।

বিষয়:

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত