টানা তিন হারে বিপাকে ম্যান সিটি – MZamin
টানা তিন হারে বিপাকে ম্যান সিটি – MZamin
0:00 0:00

টানা তিন হারে বিপাকে ম্যান সিটি – MZamin

খেলা
টানা তিন হারে বিপাকে ম্যান সিটি – MZamin
নিউজ ডেস্ক
৮ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৩২ এএম

ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে দুর্দান্ত শুরুর পর হঠাৎ করেই খাদের কিনারায় ম্যানচেস্টার সিটি। মৌসুমের প্রথম সাত ম্যাচ জিতে উড়তে থাকা এনজো মারেস্কার দল এখন বড় এক দুঃস্বপ্নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শনিবার সিটি গ্রাউন্ডে নটিংহ্যাম ফরেস্টের কাছে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হেরে লীগে টানা তিন ম্যাচ হারের লজ্জায় ডুবেছে বর্তমান রানার্সআপরা।

রিভার ট্রেন্টের তীরে ফরেস্ট সমর্থকরা উল্লাস আর ‘তোমাদের কি প্রতি সপ্তাহেই আমাদের বিপক্ষে খেলা উচিত?’ এমন ব্যঙ্গাত্মক গানে মেতে ওঠে। এর মধ্যে সিটির ভঙ্গুর রক্ষণভাগ ফের বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে ইওস্কো গাভার্দিওলের ভুলে বল পেয়ে ফরেস্টকে এগিয়ে দেন জাইর কুনহা। এরপর লিয়াম দেলাপের জোড়া গোলে ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় স্বাগতিকরা। এছাড়া এলিয়ট অ্যান্ডারসন ও রিয়ান চেরকিদের নিয়ে গড়া মিডফিল্ড বা রক্ষণ—কোথাও যেন চেনা ছন্দ ছিল না সিটির।

ম্যাচ শেষে হতাশ মারেস্কা বলেন, ‘প্রথমার্ধে আমরা তাদের তীব্রতা বা সেকেন্ড বলের লড়াইয়ে টিকতে পারিনি। এই ধরনের ম্যাচে সবার আগে প্রয়োজন তীব্রতা। আমরা ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ফেরার চেষ্টা করেছি, গোলও পেয়েছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাউন্টার অ্যাটাকে আরও একটি গোল হজম করতে হয়েছে। কোনো প্যানিক করার সময় নেই, আমাদের পরিস্থিতি বুঝতে হবে এবং শুধরে নিতে হবে।’

ম্যাচের পর সাবেক লিভারপুল মিডফিল্ডার ডানি মারফি সিটির পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে সিটির মানসিকতায় বড় ঘাটতি ছিল। প্রিমিয়ার লীগের যেকোনো মাঠে খেলতে গেলে, বিশেষ করে যারা অবনমন এড়াতে লড়ছে তাদের বিপক্ষে অমন খেলা মানায় না। রক্ষণ সামলাতে মারেস্কাকে এখন বড় প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে।’

এই হারের ফলে প্রিমিয়ার লীগ ইতিহাসে এক অদ্ভুত ও লজ্জাজনক রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে সিটি। ১৯০৪-০৫ মৌসুমে শেফিল্ড ওয়েডনেসের পর ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় দল হিসেবে কোনো দল লীগের প্রথম সাতটি ম্যাচ জেতার পর টানা পরের তিনটিতে হেরে বসলো। নিজেদের ম্যাচে হাল সিটির বিপক্ষে ১-০ গোলে জয় তুলে নিয়ে টেবিলের শীর্ষেই আছে আর্সেনাল। গানারদের সমান ১০ ম্যাচ খেলে তাদের চেয়ে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে সিটি।

তবে ইতিহাস অবশ্য পুরোপুরি নিরাশ করছে না সিটিকে। এর আগে ২০০২-০৩ মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং ২০১৩-১৪ মৌসুমে স্বয়ং সিটিজেনরাও ১০ ম্যাচ শেষে বর্তমানের চেয়ে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত প্রিমিয়ার লীগ শিরোপা ঘরে তোলে।

চলমান মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি প্রিমিয়ার লীগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের দায়ে ক্লাবের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আপিল প্রক্রিয়া এখনো ঝুলছে, যা দলটির দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক ফিফা উইন্ডোর আগে রক্ষণভাগের সমস্যা সমাধান এবং স্কোয়াডের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনাই এখন কোচ এনজো মারেস্কার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্লে-অফ বা শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে এই বিরতির পরই সিটিকে নতুন রূপে ফিরতে হবে।