জীবনের কঠিন সময় মানুষকে অনেক কিছু নতুন করে চিনতে শেখায়। নিউজিল্যান্ডের পেসার ব্লেয়ার টিকনারের জীবনেও তেমনই এক অভিজ্ঞতা এনে দিয়েছে তার স্ত্রী সারাহর ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই। আট মাসের চিকিৎসা, হাসপাতালের দিন-রাত আর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে পরিবারের সেই কঠিন সময় পার করেছেন তিনি। এখন স্ত্রী সুস্থ, ক্যানসারমুক্তির পর্যায়ে। আর সেই অভিজ্ঞতা বদলে দিয়েছে ক্রিকেট ও জীবন সম্পর্কে টিকনারের দৃষ্টিভঙ্গি।
২০২৪ সালের এপ্রিলে সারাহর লিউকেমিয়া (রক্তের ক্যানসার) শনাক্ত হয়। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ আট মাসের চিকিৎসা। ওই বছরের ২৪ংযব ডিসেম্বর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন সারাহ। বর্তমানে তিনি ক্যানসারমুক্ত অবস্থায় রয়েছেন। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে নিজের জীবনের কঠিন সময় নিয়ে কথা বলেছেন টিকনার। তিনি বলেন, ‘আমার জীবনটা বলতে গেলে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। সারাহ ও আমার পরিবার সবকিছু কাটিয়ে উঠতে পেরেছে, এটা অসাধারণ। এখন আমি শুধু ক্রিকেট উপভোগ করার চেষ্টা করছি। মনে হচ্ছে, আগের চেয়ে অনেক বেশি নিজের মতো থাকতে পারছি।’
ক্যারিয়ারের শুরুতে চাপ অনুভব করতেন এই কিউই পেসার। এরপর স্ত্রীর অসুস্থতা তাকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি করে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এখন ক্রিকেটকে দেখেন ভিন্ন চোখে। টিকনার বলেন, ‘ক্যারিয়ারের শুরুতে আমার ওপর অনেক চাপ ছিল। এরপর সারাহর ক্যানসারের চিকিৎসার সময়টা ছিল ভীষণ কঠিন। এখন ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছি। তাই শুধু আনন্দ নিয়ে খেলতে চাই। নিজের মতো থাকতে চাই।’
এই কঠিন অভিজ্ঞতা তাকে বুঝিয়েছে, ক্রিকেট জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও পুরো জীবন নয়। টিকনারের কাছে এখন পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়ই সবচেয়ে মূল্যবান। তিনি বলেন, ‘আমি চেষ্টা করি মুখে হাসি নিয়ে খেলতে। কারণ ক্রিকেটের বাইরেও জীবন অনেক বড়। ক্রিকেট আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। কিন্তু দিনশেষে আমি যখন বাড়ি ফিরে আমার মেয়ে ও স্ত্রীর কাছে যেতে পারি, তখন নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হয়। আমি সুখী। তাই আমার কাছে ক্রিকেটের চেয়েও এগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে অবশ্য ব্যাট হাতেও আলোচনায় আসেন টিকনার। ১১ নম্বরে নেমে মাত্র ২৩ বলে করেছেন ৩৪ রান। শেষ উইকেটে জ্যাকব ডাফির সঙ্গে তার ৪১ রানের জুটি কিছুটা হলেও স্বস্তি দেয় স্বাগতিক সমর্থকদের।