নিষিদ্ধ হয়েছিল নাটকটি, স্তালিন দেখেছিলেন ১৪ বার
নিষিদ্ধ হয়েছিল নাটকটি, স্তালিন দেখেছিলেন ১৪ বার
0:00 0:00

নিষিদ্ধ হয়েছিল নাটকটি, স্তালিন দেখেছিলেন ১৪ বার

বিনোদন
নিষিদ্ধ হয়েছিল নাটকটি, স্তালিন দেখেছিলেন ১৪ বার

১৯২৬ সালে মঞ্চস্থ দ্য ডেজ অব দ্য টারবিনস নাটকের একটি দৃশ্য। ছবি: মস্কো আর্ট থিয়েটারের ওয়েবসাইট থেকে

নিউজ ডেস্ক
২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯:০০ পিএম

১০০ বছর আগে কথা। বিপ্লব হয়ে গেছে, জারের পতন ঘটেছে। কিন্তু গৃহযুদ্ধ থামেনি। একের পর এক বদলাচ্ছে কিয়েভের নিয়ন্ত্রণ। সেই অস্থির সময়ে একটি পরিবার নিজেদের ঘরের ভেতর আঁকড়ে ধরে আছে আগের জীবন, মূল্যবোধ আর স্মৃতি। বাইরে গোলাগুলি, মৃত্যু আর অনিশ্চয়তা। আজ যারা ক্ষমতাসীন, কাল তারাই পালিয়ে বেড়াচ্ছে। দরজা ভেঙে যেন ঘরে ঢুকে পড়ছে ইতিহাস।
রুশ ইতিহাসের অস্থির এই সময়ের গল্প নিয়েই মিখাইল বুলগাকভ লিখেছিলেন উপন্যাস ‘দ্য হোয়াইট গার্ড’। সেই উপন্যাস অবলম্বনে পরে নিজেই রচনা করেন নাটক ‘দ্য ডেজ অব দ্য টারবিনস’। কঠিন শর্ত সাপেক্ষে নাটকটি মঞ্চস্থ করার অনুমতি দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। নাটকটির প্রথম মঞ্চায়নের শতবর্ষ পূর্ণ হয়েছে ৫ অক্টোবর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নাটকের বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপে নাটকটির কথা উঠে আসছে। শতবর্ষের এই উপলক্ষে ফিরে দেখা যাক, কীভাবে রাজনৈতিক আক্রমণ ও নিষেধাজ্ঞা পেরিয়ে নাটকটি হয়ে উঠেছিল মস্কোর মঞ্চের অন্যতম আলোচিত প্রযোজনা।
এই নাটকের ইতিহাসে পাশাপাশি রয়েছে দুটি বিপরীত ছবি। একদিকে দর্শকের ভিড়, অন্যদিকে মঞ্চায়ন বন্ধের দাবি। বুলগাকভের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মহিমান্বিত করার অভিযোগ উঠেছে। অথচ কমিউনিস্ট শাসক জোসেফ স্তালিন নিজেই নাটকটি দেখতে গেছেন বারবার। তাঁর আগ্রহও অবশ্য নাটকটিকে নিষেধাজ্ঞা থেকে পুরোপুরি রক্ষা করতে পারেনি।

উপন্যাস থেকে মঞ্চে
‘দ্য হোয়াইট গার্ড’-এর মূল পটভূমি ১৯১৮ সালের কিয়েভ। আগের বছর রাশিয়ায় জারের শাসনের পতন হয়েছে, পরে বলশেভিকরা ক্ষমতা দখল করেছে। কিন্তু সাবেক রুশ সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে তখনো যুদ্ধ ও ক্ষমতার লড়াই চলছে।
জারের পতন পুরোনো শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটালেও নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কার অবস্থান কোথায় হবে, তা তখনো অনিশ্চিত। বিশেষ করে কিয়েভে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে বদলে যাচ্ছিল মানুষের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের হিসাব। সামরিক পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক আনুগত্যও হয়ে উঠতে পারত বিপদের কারণ।
কিয়েভে বসবাসকারী টারবিন পরিবারকে ঘিরে এগিয়েছে উপন্যাসের গল্প। যুদ্ধ ও রাজনৈতিক পালাবদলের মধ্যে একটি শিক্ষিত পরিবারের পরিচিত পৃথিবী কীভাবে ভেঙে পড়ছে, বুলগাকভ তুলে ধরেছেন সেই অভিজ্ঞতা। পরিবারের সদস্য ও তাদের ঘনিষ্ঠজনদের কথাবার্তা, ভয়, সংশয় আর সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সামনে আসে বৃহত্তর রাজনৈতিক বিপর্যয়।
ঘর এখানে শুধু আশ্রয় নয়। পরিচিত মানুষ, সম্পর্ক ও জীবনযাপনের ধারাবাহিকতাও। বাইরে যে পক্ষই ক্ষমতায় আসুক, ঘরের ভেতর মানুষ স্বাভাবিক জীবনের কিছুটা ধরে রাখতে চায়। কিন্তু যুদ্ধের মধ্যে সেই চাওয়াটুকুও ক্রমে কঠিন হয়ে পড়ে। নাটকের ব্যক্তিগত সংকট ও রাজনৈতিক পটভূমি এভাবেই পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে যায়।
মিখাইল বুলগাকভ জাদুঘরের তথ্য অনুযায়ী, উপন্যাসটি অবলম্বনে ১৯২৫ থেকে ১৯২৬ সালের মধ্যে নাটকটি তৈরি করেন তিনি।
মস্কো আর্ট থিয়েটারের ওয়েবসাইটে সংরক্ষিত একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা থেকে জানা যায়, ১৯২৫ সালে মস্কো আর্ট থিয়েটার ও ভাখতাঙ্গভ থিয়েটার—দুই প্রতিষ্ঠানই উপন্যাসটির নাট্যরূপ নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিল। মস্কো আর্ট থিয়েটারকে বেছে নেন বুলগাকভ। ওই বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রথম সংস্করণটি লেখেন। সব মিলিয়ে নাটকটির তিনটি সংস্করণ তৈরি হয়।

উপন্যাসের বিস্তৃত ঘটনাপ্রবাহকে মঞ্চের সীমিত পরিসরে আনার জন্য গল্প পুনর্গঠন করতে হয়েছিল। চরিত্রের সংখ্যা কমানো, ঘটনাকে সংক্ষিপ্ত করা এবং সংলাপের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি স্পষ্ট করার কাজ চলছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয় রাজনৈতিক আপত্তি। ফলে নাটকটির পরিবর্তন শুধু মঞ্চের প্রয়োজনেই হয়নি; অনুমতি পাওয়ার লড়াইও তার চূড়ান্ত রূপ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল।

প্রথম প্রদর্শনীর আগে গোপন নির্দেশনা
বিপ্লবের এক দশকও তখন পেরোয়নি। গৃহযুদ্ধের স্মৃতিও টাটকা। সেই সময়ে মস্কোর অন্যতম প্রধান থিয়েটারের মঞ্চে আসছে এমন একটি গল্প, যার কেন্দ্রে বলশেভিকদের প্রতিপক্ষ শ্বেতরক্ষীদের সঙ্গে যুক্ত কিংবা তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল মানুষ। শুরু থেকেই তাই নাটকটি রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে।
এই চরিত্রগুলোকে কীভাবে দেখানো হবে, সেটিই ছিল বড় প্রশ্ন। পরাজিত রাজনৈতিক পক্ষের মানুষও কি মঞ্চে দর্শকের সহানুভূতি পেতে পারে? তাদের ব্যক্তিগত দুঃখ, সম্পর্ক কিংবা সংকট তুলে ধরা কি তাদের রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করার শামিল? নাটকটি ঘিরে আপত্তির কেন্দ্রে ছিল এমন টানাপোড়েন।
উপন্যাসকে মঞ্চে আনার কাজটিও সহজ ছিল না। গল্প সংক্ষিপ্ত করতে হয়েছে, বাদ দিতে হয়েছে চরিত্র ও দৃশ্য। মহড়া, থিয়েটারের শিল্প পরিষদের আলোচনা এবং সরকারি সেন্সরদের আপত্তির মুখে বারবার বদলেছে নাটকের কাঠামো। ‘দ্য হোয়াইট গার্ড’-এর বদলে নাম হয় ‘দ্য ডেজ অব দ্য টারবিনস’।

বুলগাকভ জাদুঘরের সংগ্রহভুক্ত ১৯২৬ সালের ১ অক্টোবরের একটি গোপন পরিপত্রে সেই সময়ের বিধিনিষেধের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রধান রেপার্টরি কমিটির ওই পরিপত্রে চলতি মৌসুমে শুধু মস্কো আর্ট থিয়েটারকে নাটকটি মঞ্চস্থ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। প্রথম প্রদর্শনীর চার দিন আগে জারি করা এই নির্দেশনায় অনুমতির সঙ্গে মঞ্চায়নের সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়। রুশ সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের অন্য থিয়েটারগুলোর জন্য মঞ্চায়ন ছিল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
অর্থাৎ একটি থিয়েটারে মঞ্চায়নের ছাড়পত্র মিললেও নাটকটি অন্যত্র ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ ছিল না। অনুমতি ছিল নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও মৌসুমের জন্য। প্রথম প্রদর্শনীর প্রস্তুতির মধ্যেও তাই প্রযোজনাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে গিয়েছিল।
একই সংগ্রহের বিবরণ অনুযায়ী, সরকারি সেন্সররা নাটকে পরিবর্তন চেয়েছিলেন। মঞ্চায়নের অনুমতি নিয়ে একাধিকবার সিদ্ধান্ত বদলেছিল কর্তৃপক্ষ। ১৯২৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সোভিয়েত গোপন পুলিশ সংস্থা ওজিপিইউও মঞ্চায়নের বিরুদ্ধে আপত্তি জানায়। তাদের অভিযোগ ছিল, পরিবর্তনগুলো করার পরও শ্বেতরক্ষী অফিসারদের আদর্শায়িত করা হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত ১৯২৬ সালের ৫ অক্টোবর মস্কো আর্ট থিয়েটারের মঞ্চে নাটকটির পর্দা ওঠে। নির্দেশক ছিলেন ইলিয়া সুদাকভ; শিল্প নির্দেশনায় ছিলেন কনস্তান্তিন স্তানিস্লাভস্কি। প্রথম প্রযোজনায় অ্যালেক্সেই টারবিনের চরিত্রে ছিলেন নিকোলাই খমেলিয়ভ, মিশলায়েভস্কির চরিত্রে বরিস দবরোনরাভভ, এলেনার ভূমিকায় ভেরা সোকোলোভা, লারিওসিক চরিত্রে মিখাইল ইয়ানশিন এবং শেরভিনস্কির ভূমিকায় মার্ক প্রুদকিন।

দর্শকের ভিড়, রাজনৈতিক আক্রমণ
মঞ্চে ওঠার পর দর্শকের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ‘দ্য ডেজ অব দ্য টারবিনস’। গবেষক লিদিয়া ইয়ানোভস্কায়ার ‘মিখাইল বুলগাকভের সৃষ্টির পথ’ বই অনুযায়ী, প্রথম মঞ্চায়নের মাসে, অর্থাৎ ১৯২৬ সালের অক্টোবরে এর ১৩টি প্রদর্শনী হয়।
বুলগাকভ জাদুঘরের সংগ্রহবিবরণ অনুযায়ী, নাটকটি যেকোনো সময় নিষিদ্ধ হতে পারে—এমন আশঙ্কায় দর্শকেরা ভিড় করতেন। থিয়েটারের সামনে তিন গুণ দামে টিকিট বিক্রির কথাও সেখানে উল্লেখ রয়েছে।
দর্শকের কাছে ঘটনাগুলো নিছক দূর অতীতের ইতিহাস ছিল না। যুদ্ধ ও রাজনৈতিক পালাবদলের অভিজ্ঞতা তখনো মানুষের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। মঞ্চের চরিত্রগুলোর ভয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ কিংবা পরিচিত জীবন হারানোর বেদনা সেই স্মৃতিকে নাড়া দেওয়ার মতোই ছিল।
কিন্তু দর্শকের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি চলছিল রাজনৈতিক সমালোচনা। বুলগাকভের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি শ্বেতরক্ষীদের প্রতি সহানুভূতিশীল। পরাজিত পক্ষের মানুষকে কেন এত মানবিকভাবে দেখানো হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের এমন মানবিক উপস্থাপন সমালোচকদের একাংশ মেনে নিতে পারেনি।
টারবিন পরিবারের সদস্যরা ভয় পায়, ভালোবাসে, ভুল করে। বিপর্যয়ের মধ্যে তারা কখনো পুরোনো বিশ্বাস আঁকড়ে থাকে, কখনো নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তাদের এই ব্যক্তিগত জীবনও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। দর্শকের সহানুভূতি তৈরি হওয়ার জায়গাটি সেখানেই; সমালোচকদের আপত্তিরও অন্যতম কারণ ছিল সেটি। অথচ নাটকটিকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখেছিলেন স্তালিন।

স্তালিনের ভিন্ন পাঠ
স্তালিন নাটকটি কতবার দেখেছিলেন, তা নিয়ে প্রকাশিত বিবরণে পার্থক্য আছে। মস্কো আর্ট থিয়েটারের ওয়েবসাইটে সংরক্ষিত ‘মস্কোভস্কিয়ে নোভোস্তি’ পত্রিকায় ২০০৪ সালে প্রকাশিত নিনা আগিশেভার একটি লেখায় সংখ্যাটি ১৪। একই সাইটে সংরক্ষিত আরেকটি লেখায় থিয়েটার-মিউজিয়ামের নথির বরাতে বলা হয়েছে ১৫ বার।
নাটকটির বিষয়ে তাঁর রাজনৈতিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় নিজের লেখা চিঠিতে। ১৯২৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নাট্যকার ভ্লাদিমির বিল-বেলোৎসেরকোভস্কিকে লেখা এক চিঠিতে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন স্তালিন।
স্তালিনের যুক্তি ছিল, টারবিনদের মতো বলশেভিকবিরোধী মানুষও যখন শেষ পর্যন্ত অস্ত্র নামিয়ে নিজেদের পরাজয় স্বীকার করে, তখন দর্শকের কাছে বলশেভিকদের অজেয়তার ধারণাই প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর বিচারে নাটকটি ক্ষতির চেয়ে উপকারই বেশি করে।
সমালোচকদের একাংশ চরিত্রগুলোর প্রতি সহানুভূতিকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর মনে করেছিল। স্তালিন গুরুত্ব দিয়েছিলেন তাদের পরাজয়ের পরিণতিতে। তাঁর ব্যাখ্যায়, প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালী কিংবা মর্যাদাবানই হোক, শেষ পর্যন্ত বলশেভিকদের বিজয় মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের পথ নেই।
এভাবে একই নাটকের দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক পাঠ তৈরি হয়েছিল। তবে এই চিঠি থেকে স্তালিনের বারবার নাটকটি দেখতে যাওয়ার সব ব্যক্তিগত কারণ নিশ্চিত করা যায় না। চিঠিতে পাওয়া যায় নাটকটির রাজনৈতিক উপযোগিতা সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য।

পছন্দের নাটকও নিষিদ্ধ
স্তালিনের আগ্রহ থাকলেও নাটকটির মঞ্চযাত্রা নির্বিঘ্ন হয়নি। ১৯২৯ সালে এটির প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যায়। বুলগাকভ নিজের আত্মজীবনীতে লিখেছেন, নাটকটি ২৮৯তম প্রদর্শনীর পর নিষিদ্ধ হয়েছিল।
দর্শকপ্রিয়তা যে মঞ্চে টিকে থাকার নিশ্চয়তা নয়, প্রযোজনাটির অভিজ্ঞতায় তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। টিকিটের চাহিদা ছিল, অভিনয় নিয়ে আগ্রহ ছিল, কিন্তু রাজনৈতিক আপত্তির মুখে সেসব যথেষ্ট হয়নি।

এই সময় বুলগাকভের নিজের জীবনও কঠিন হয়ে উঠছিল। একের পর এক কাজ প্রকাশ ও মঞ্চায়নের সুযোগ হারায়। একজন লেখকের জন্য এটি শুধু আয়ের সংকট ছিল না; নিজের লেখা পাঠক ও দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পথও বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল।
১৯৩০ সালের ২৮ মার্চ বুলগাকভ সোভিয়েত সরকারকে দীর্ঘ একটি চিঠি লেখেন। সেখানে কাজের সুযোগ না থাকলে দেশ ছাড়ার অনুমতি চান।

কয়েক সপ্তাহ পর, ১৮ এপ্রিল, বুলগাকভকে টেলিফোন করেন স্তালিন। সেই কথোপকথনের পর মস্কো আর্ট থিয়েটারে কাজের সুযোগ পান তিনি। কিন্তু তাঁর নাটকটি মঞ্চে ফেরেনি। অপেক্ষা করতে হয় আরও প্রায় দুই বছর।
বুলগাকভের কাজের সুযোগ পাওয়া এবং তাঁর নাটকের ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়া—দুটি ঘটনা একই সঙ্গে ঘটেনি। থিয়েটারে যুক্ত হতে পারলেও নিজের দর্শকপ্রিয় প্রযোজনাটি ফিরে পেতে তাঁকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
ফিরে এসে প্রায় এক হাজার প্রদর্শনী
১৯৩২ সালের শুরুতে আবার ‘দ্য ডেজ অব দ্য টারবিনস’ মঞ্চায়নের সুযোগ পায় মস্কো আর্ট থিয়েটার। নিষেধাজ্ঞার বিরতি পেরিয়ে শুরু হয় প্রযোজনাটির মঞ্চযাত্রার পরবর্তী অধ্যায়।
শতবর্ষ উপলক্ষে ৫ অক্টোবর প্রকাশিত মস্কো আর্ট থিয়েটারের মিডিয়া সেন্টারের নিবন্ধ অনুযায়ী, প্রথম প্রযোজনাটি সব মিলিয়ে ৯৮৭ বার মঞ্চস্থ হয়েছিল। এই হিসাবে নিষেধাজ্ঞার আগের ও পরের প্রদর্শনীগুলো রয়েছে। শর্তসাপেক্ষ অনুমতিতে শুরু হওয়া প্রযোজনাটি এভাবেই পৌঁছায় প্রায় এক হাজার প্রদর্শনীতে।
তবে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধেই থেমে যায় তার পথচলা। ১৯৪১ সালের জুনে মিনস্কে থিয়েটারের সফরের সময় বোমার আঘাতে প্রযোজনার মঞ্চসজ্জা ধ্বংস হয়। এরপর প্রযোজনাটি আর ফিরিয়ে আনা হয়নি।
সূত্র: মস্কো আর্ট থিয়েটারের প্রযোজনা-ইতিহাস, বুলগাকভের জীবনী ও মিডিয়া সেন্টারের শতবর্ষের নিবন্ধ; মিখাইল বুলগাকভ জাদুঘরের সংগ্রহবিবরণ ও আত্মজীবনী; রাশিয়ার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ‘আর্টেফ্যাক্ট’ সংগ্রহ; স্তালিনের রচনাবলি।