সাংবাদিকদের নিয়ে আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহারে ক্র্যাবের আলটিমেটাম
সাংবাদিকদের নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত সততা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে করা ঢালাও মন্তব্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। অন্যথায়, অন্যান্য সাংবাদিক সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
আজ সোমবার সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক ইসমাঈল হুসাইন ইমুর স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, আজ পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেন, ‘মাদকের টাকা না পেলে সাংবাদিকরা লিখছেন পুলিশ অকার্যকর। বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।’
ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল ও সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ্ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, পুলিশের সর্বোচ্চ পদে আসীন একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছ থেকে সাংবাদিকদের নিয়ে এমন মন্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক। মাদক নির্মূলে পুলিশের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি পুলিশের কার্যক্রমের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্বাধীন সাংবাদিকতার ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ থাকলে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া সামগ্রিকভাবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তোলা দায়িত্বশীল আচরণের পরিচায়ক নয়।
ক্র্যাব নেতারা বলেন, পুলিশের কার্যক্রমসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ, অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরা এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় জনগণের সামনে উপস্থাপন করা সাংবাদিকদের দায়িত্ব। পুলিশের কার্যকারিতা নিয়ে প্রতিবেদন বা সমালোচনাকে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে অর্থ না পাওয়ার প্রতিক্রিয়া হিসেবে চিত্রিত করা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এ ধরনের মন্তব্য জনমনে সাংবাদিকদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে ক্র্যাব নেতারা আইজিপির মন্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং এ বিষয়ে দায়িত্বশীল অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান। অন্যথায়, সাংবাদিকদের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও পেশাগত অধিকার রক্ষায় দেশের অন্যান্য সাংবাদিক সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
পুলিশ সদর দপ্তরের ব্যাখ্যা
এদিকে, একই অনুষ্ঠানে ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত আইজিপির বক্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। আজ সোমবার সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ক্রসফায়ারের প্রয়োজন হলে এবং সরকার অনুমতি দিলে পুলিশ তা করবে—আইজিপির এমন বক্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ ও শিরোনাম পুলিশ সদর দপ্তরের নজরে এসেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীতে কমিউনিটি ব্যাংকের চকবাজার ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপি আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে গিয়ে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি আক্ষরিক অর্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে শব্দটি ব্যবহার করেননি।
ওই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সম্পর্কে আইজিপির মন্তব্য নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তিনি সাংবাদিকদের সম্পর্কে ঢালাও কোনো মন্তব্য করতে চাননি; বিষয়টি অসাবধানতাবশত হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন