ক্রসফায়ারের বক্তব্য প্রত্যাহার ও আইজিপির জবাবদিহি দাবি টিআইবির
ক্রসফায়ারের বক্তব্য প্রত্যাহার ও আইজিপির জবাবদিহি দাবি টিআইবির
0:00 0:00

ক্রসফায়ারের বক্তব্য প্রত্যাহার ও আইজিপির জবাবদিহি দাবি টিআইবির

বাংলাদেশ
ক্রসফায়ারের বক্তব্য প্রত্যাহার ও আইজিপির জবাবদিহি দাবি টিআইবির

ফাইল ছবি

নিউজ ডেস্ক
২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৯ এএম

‘সরকারের অনুমতি পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ক্রসফায়ার করবে’—পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) এমন বক্তব্য প্রত্যাহার, নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আইজিপিকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

আজ সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে টিআইবি বলেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতার বিকল্প হিসেবে বিচারবহির্ভূত হত্যার কথা বলা সংবিধান ও আইনের শাসনের প্রতি অবজ্ঞার শামিল।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পুলিশের দায়িত্ব পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করা। এর বিকল্প হিসেবে ক্রসফায়ারের কথা বলা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার সমাধান নয়; বরং পেশাগত ব্যর্থতার প্রকাশ।

তিনি বলেন, আইজিপি একদিকে আইন ও সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের কথা বলেছেন, অন্যদিকে সরকারের অনুমতি পেলে ক্রসফায়ারের কথা বলেছেন। তাঁর এ দুই অবস্থান পরস্পরবিরোধী। কোনো সরকারের অনুমতি বিচারবহির্ভূত হত্যাকে বৈধতা দিতে পারে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।

অতীতের কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সিনহা হত্যা মামলা, টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হকের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনা এবং নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহারের ভয়াবহতা স্মরণ করিয়ে দেয়। এসব ঘটনা থেকে পুলিশ কী শিক্ষা নিয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর আইজিপিকেই দিতে হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর আইনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সরকার সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ারের পথে যাবে না; বিদ্যমান আইন দিয়েই তা সম্ভব। এরপরও আইজিপি কেন সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে ক্রসফায়ারের সম্ভাবনার কথা বলছেন, তার ব্যাখ্যা সরকারকে দিতে হবে।

টিআইবি বলেছে, পুলিশের বলপ্রয়োগ হতে হবে আইনসম্মত, প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক। আগ্নেয়াস্ত্রের প্রাণঘাতী ব্যবহার কেবল জীবন রক্ষায় কঠোরভাবে অনিবার্য পরিস্থিতিতেই গ্রহণযোগ্য। একে বিচারবহির্ভূত হত্যার অনুমোদন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অর্থ না পেয়ে পুলিশের সমালোচনা করার অভিযোগ প্রসঙ্গটিও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে টিআইবি। সংস্থাটি বলেছে, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ থাকলে প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। ঢালাও অভিযোগ মুক্ত গণমাধ্যমের নজরদারি ও জবাবদিহির ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

বিষয়:

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত