অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত, অতিরিক্ত সচিবের দণ্ড
অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় অতিরিক্ত সচিব মো. মেহেদী হাসানের এক বছরের জন্য বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের লঘুদণ্ড দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে তার অননুমোদিত অনুপস্থিতির সময়কে অসাধারণ ছুটি (বিনা বেতনে) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গতকাল রোববার জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে মেহেদী হাসানের সাজার তথ্য জানিয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি আজ সোমবার প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ওএসডি অতিরিক্ত সচিব মেহেদী হাসান এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে ইকোনমিক মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর তিনি ওয়াশিংটনে যোগদান করেন। চার বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর তিনি সন্তানের শিক্ষা সেশন সম্পন্ন করা ও চিকিৎসার সুবিধার্থে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেন। কিন্তু অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে দেশে ফিরে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর মেহেদী হাসানকে ওয়াশিংটন দূতাবাস থেকে অবমুক্ত করা হয়। কিন্তু দেশে ফিরে কর্মস্থলে যোগদান না করে তিনি ২০২৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহিঃবাংলাদেশ ছুটির আবেদন করেন। অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগ করে ১ বছর ৬ মাস ৩ দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পর ২০২৫ সালের ১৯ জুন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে যোগদানপত্র জমা দেন।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়। ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর ব্যক্তিগত শুনানি নিয়ে অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের বোর্ড গঠন করা হয়। তদন্ত বোর্ড ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল তাদের প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানায়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অনুমোদিত সময়ের অতিরিক্ত ৬০ দিনের বেশি অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তবে কারণ দর্শানোর জবাবে সন্তানের শিক্ষা সেশন সম্পন্ন করা ও চিকিৎসার বিষয়টি উল্লেখ করায় তাঁর ক্ষেত্রে লঘুদণ্ড আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে তাঁর বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি এক বছরের জন্য স্থগিত রাখার লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১৮ জুন পর্যন্ত মেহেদী হাসানের অননুমোদিত অনুপস্থিতির সময় অসাধারণ ছুটি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এই সময়ের কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা তিনি পাবেন না এবং ওই সময় বেতন বৃদ্ধির জন্য চাকরিকাল হিসেবে গণনা করা হবে না বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন