মাঠের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় না ফেরার দেশে স্প্যানিশ ফুটবলার – MZamin
স্প্যানিশ ফুটবলে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ও অপূরণীয় ক্ষতি। দেশটির দ্বিতীয় সারির প্রতিযোগিতার ম্যাচে অ্যান্ডোরার বিরুদ্ধে খেলতে নেমে মর্মান্তিক চোটের শিকার হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন টেনেরিফের স্ট্রাইকার জেসুস দে মিগুয়েল আলামেদা। মঙ্গলবার সকালে ক্লাবটির পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়, যা গোটা ক্রীড়াঙ্গনকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
স্প্যানিশ দৈনিক ‘স্পোর্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল আটটা নাগাদ টেনেরিফের পক্ষ থেকে এই দুঃসংবাদ প্রকাশ করা হয়। ক্লাবের এক আবেগঘন বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই তীব্র ব্যথায় আমাদের বুক ভেঙে গেছে, ভাষা হারিয়ে গেছে এবং আমরা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না যে এটি সত্যি।’
হেলিওদোরো রদ্রিগেজ লোপেজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটির অতিরিক্ত সময়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। মাঝমাঠ থেকে কাউন্টার-অ্যাটাক করার সময় অ্যান্ডোরার গোলকিপার জেসুস ওভোনোর সঙ্গে দে মিগুয়েলের এক ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। গোলকিপারের হাঁটু সজোরে আঘাত করে ৩০ বছর বয়সী দে মিগুয়েলের বুক ও মুখে। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি মাঠে অচেতন হয়ে লুটিয়ে পড়েন।
উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুত চিকিৎসকদের মাঠে ডাকার ইশারা করেন। দীর্ঘক্ষণ মাঠে চিকিৎসা দেয়ার পর তাকে স্ট্রেচারে করে অ্যাম্বুলেন্সে এবং সেখান থেকে দ্রুত নুয়েস্ত্রা সেনোরা দে কান্দেলেরিয়া ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালে নেয়ার পথেই দে মিগুয়েল কার্ডিয়াক ও রেসপিরেটরি অ্যারেস্টে আক্রান্ত হন। চিকিৎসকরা প্রাণপণ চেষ্টা করে তার নাড়ি ফিরিয়ে আনলেও তিনি অচেতন অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মঙ্গলবারের প্রথম প্রহরে তার স্নায়বিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।
দে মিগুয়েলের পরিবার এই কঠিন সময়ে সকলের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানিয়েছে। ফুটবলে এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যু এর আগেও দর্শকদের মনে গভীর দাগ কেটেছে, যা মনে করিয়ে দেয় মাঠের লড়াইয়ের পেছনে কতটা ঝুঁকি লুকিয়ে থাকে। ফুটবলপ্রেমী থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে ক্রীড়াবিদেরা দে মিগুয়েলের বিদায়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন