ইস্তাম্বুলের তোপকাপি প্রাসাদঃযে প্রাসাদ থেকে বিশ্ব শাসন করতো উসমানীয়রা
ইস্তাম্বুলের তোপকাপি প্রাসাদঃযে প্রাসাদ থেকে বিশ্ব শাসন করতো উসমানীয়রা
0:00 0:00

ইস্তাম্বুলের তোপকাপি প্রাসাদঃযে প্রাসাদ থেকে বিশ্ব শাসন করতো উসমানীয়রা

ভ্রমণ
ইস্তাম্বুলের তোপকাপি প্রাসাদঃযে প্রাসাদ থেকে বিশ্ব শাসন করতো উসমানীয়রা
১০ অক্টোবর ২০২৬, ৩:০২ পিএম
তোপকাপি প্রাসাদ।তুর্কির অটোমান (ওসমানি) সুলতানেরা এই প্রাসাদ থেকে একসময় মক্কা, মদিনা, বাগদাদ ও জেরুজালেমসহ দক্ষিণপূর্ব ইউরোপ, রাশিয়া, পশ্চিম এশিয়া, উত্তরপূর্ব আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল এক সাম্রাজ্য শাসন করতেন। প্রাসাদটি তুরস্কের ইস্তানবুলে মর্মর সাগর, বসফরাস প্রণালী ও গোল্ডেন হর্ন খাঁড়ি ঘেরা একটি নয়নাভিরাম ছোট উপদ্বীপে পাহাড়ের ওপরে অবস্থিত। বর্তমান ইস্তানবুল শহরের এই উপদ্বীপটি ১৪৫৩ সালের পূর্ব পর্যন্ত কনস্টান্টিনোপল নামের এক খ্রিষ্টানপ্রধান শহর ছিল। তোপকাপি আজ অবধি টিকে থাকা বিশ্বের বৃহত্তম ও প্রাচীনতম প্রাসাদ। তোপ শব্দের অর্থ কামান আর কাপি অর্থ গেট। তোপকাপি নামে একসময় প্রাসাদের একটি বড় গেট ছিল, যার নামে প্রাসাদের এই নাম। তুর্কি ভাষায় এই প্রাসাদ ‘টপকাপু সারাই’ বা ‘সার্গলিও’ নামেও পরিচিত।
তোপকাপি প্রাসাদ একটি স্থাপত্য বিস্ময় যা অটোমান সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের কথা বলে। এ প্রাসাদের রান্নাঘরে প্রায় ১ হাজার ২০০ চীনামাটির তৈজসপত্রের একটি সংগ্রহ রয়েছে, যার মধ্যে চীন থেকে আসা একটি সেলাডন বাটি রয়েছে যেটি খাবারে বিষ মেশানো থাকলে রঙ পরিবর্তন করবে। তোপকাপি প্রাসাদটি বিশ্বের টিকে থাকা বৃহত্তম প্রাসাদের মধ্যে একটি এবং সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদের আদেশে ১৪৬০ থেকে ১৪৭৮ সালের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল।
প্রাসাদটি প্রায় চার শতাব্দী ধরে অটোমান সুলতানদের আবাসস্থল হিসেবে কাজ করেছে। এটি রাজ্যের প্রশাসনিক এবং শিক্ষামূলক সদর দপ্তরও ছিল। মেহমেদের মৃত্যুর পর প্রায় ৩০ জন সুলতান রাজপ্রাসাদ থেকে শাসনকার্য পরিচালনা করেছেন এবং একাধিকবার পরিমার্জন ও পরিবর্ধন করেছেন। ইসলামিক, ইউরোপীয় এবং অটোমান স্থাপত্যশৈলীর একটি অনন্য মিশ্রণ এ তোপকাপি প্রাসাদ। এটি উসমানি সুলতানদের ঐশ্বর্য আর সৌন্দর্যপ্রিয়তার কিংবা বিলাসিতার কথাই বলে।
প্যালেসের অনেকগুলো অংশ রয়েছে- যেমন মূলপ্রাসাদ, গেট রয়েছে ৪টি, রান্নাঘর, পার্লামেন্ট সেকশন, বেকারি আইটেম বানানোর জায়গা, লাইব্রেরি আর হারেম। ট্রেজারি সেকশনে রয়েছে হীরা, মুক্তা, পান্নার মুকুট, তরবারি, নেকলেস আর সোনার বিশাল কয়েকটি সিংহাসন। এর মধ্যে একটি সিংহাসন রয়েছে যা ২৫ হাজার মুক্তা আর সোনার পাতে মোড়ানো। এটি নাদিরশাহ সুলতান মেহমুদকে উপহার দিয়েছিলেন।বিশ্বের সব থেকে বড় ডায়মন্ড শোভা পাচ্ছে ট্রেজারি অংশে। জাদুঘরে আছে ক্যালিগ্রাফি, পেইন্টিং আর বিভিন্ন ধরনের ঘড়ি। হীরা বসানো বড় একটি ঘড়ি আছে যা রাশিয়ার জার নিকোলাস সুলতান মজিদকে উপহার দিয়েছেন।