তৃতীয় দিনের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছয় উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু বোলারদের অর্জন মাটি করে দেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অল্পতেই ছয় উইকেট হারিয়ে বসে শান্তর দল। মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গতকালও আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগে দিনের খেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। দিনশেষে বাংলাদেশ নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯ ওভারে ছয় উইকেট হারিয়ে ৭৯ রান সংগ্রহ করে। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের প্রথম ইনিংসে সবক’টি উইকেট হারিয়ে ২৪৫ রান তোলে। সেই সুবাদে ২৭ রানের লিড পায় টাইগাররা। গতকাল দিনের শেষে বাংলাদেশের লিড দাঁড়ায় ১০৬ রানে। প্রথম ইনিংসে লিড পাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে টাইগাররা দেখায় ঠুনকো ব্যাটিং। রোস্টন চেইস এবং জোমেল ওয়ারিক্যানের স্পিনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা নিয়মিত আউট হন। দুই অঙ্কের রান ছুঁতে ব্যর্থ হন চার শীর্ষ ব্যাটসম্যান । তানজিদ হাসান শূন্য রানে এবং প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান সাদমান ইসলাম ১৩ রানে আউট হন।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দশ রান করে চেইসের বলে এলবিডব্লিউ হন। তাওহীদ হৃদয় দ্বিতীয় ইনিংসেও বাজে এক শটে শূন্য রান করে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। ক্রিজে থেকে লড়াই করছেন মুমিনুলের কনকাশনে আসা জাকের আলী। তাকে সঙ্গ দিচ্ছে স্পিনার নাঈম হাসান। দু’জনের ব্যাটেই নির্ভর করছে বাংলাদেশের মিরপুর টেস্টের ভাগ্য! লিড নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ক্রিজে নেমে পরিস্থিতি বিচার না করে নিজেদের উইকেট বিলিয়ে দেন। ইনিংসের শুরুতে জোসেফের বলে লাইন আড়াআড়ি খেলতে গিয়ে গালিতে ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান। সাদমান ইসলাম বল স্পিন করবে ভেবে সোজা বলে ব্যাট চালিয়ে সরাসরি বোল্ড হন চেইসের বলে। তাওহীদ হৃদয় ক্রিজে এসে পরিস্থিতি না বুঝে আড়াআড়ি শট খেলতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ তুলে দেন।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলের লাইন বুঝতে না পেরে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন। রিভিউ নিয়েও তিনি বাঁচতে পারেননি। চেইস একাই দলের প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফেরান। লিটন দাস ওয়ারিক্যানের বলের ফ্লাইট বুঝতে ব্যর্থ হয়ে এলবিডব্লিউ হন। বল সোজা স্টাম্পে আঘাত করত বলে রিভিউ নিলেও তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। মিরাজ ওয়ারিক্যানের বলে পরাস্ত হন। বল টার্ন নিয়ে লাফিয়ে উঠে তার স্টাম্প ভেঙে দেয়। ক্যারিবিয়ান স্পিন ও বাউন্সের সামনে ব্যাটসম্যানরা কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। শট নির্বাচনে তাদের ঘাটতি সবার চোখে পড়ে। টেস্ট ক্রিকেটের মেজাজ বুঝতে তারা পুরোপুরি ব্যর্থ হন। ব্যাটসম্যানদের এমন আত্মসমর্পণ দলকে খাদের কিনারে ঠেলে দেয়। ছয় উইকেট পড়ার পর জাকের আলি ও নাঈম প্রতিরোধ গড়েন। তারা অবিচ্ছিন্ন থেকে ২৬ রান যোগ করেন। দিনশেষে দুজনই ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে ফিল্ডিং করার সময় ক্যাচ ধরতে গিয়ে মুমিনুল হক মাথায় আঘাত পান। তার কনকাশন বদলি হিসেবে একাদশে সুযোগ পান জাকের।
মুমিনুল ছিটকে যাওয়ায় ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নামেন তিনি। দলের এই পরিস্থিতিতে জাকের ও নাঈমের জুটির ওপর দলের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। আজ সকালে এই দুজনকেই দলের হাল ধরতে আবার মাঠে নামতে হবে। পিচে স্পিনাররা টার্ন পাচ্ছেন এবং বাউন্স অসমান। চতুর্থ ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে। এর আগে বাংলাদেশকে লড়াই করার মতো একটি পুঁজি স্কোরবোর্ডে জমা করতে হবে যেন বোলাররা লড়াই করার ভিত পান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ চার উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে দিন শুরু করে। তেজনারাইন চান্দারপল ও জাস্টিন গ্রেভস জুটি স্কোরবোর্ড এগিয়ে নেন। তাইজুল ইসলামের বলে ছক্কা মেরে চান্দারপল ফিফটি পূর্ণ করেন। শরিফুল ইসলামের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়ার আগে চান্দারপল ১৮৪ বলে ৫৬ রান করেন। এরপর গ্রেভস ও চেইস ৫১ রানের জুটি গড়েন। নাঈম হাসান বল হাতে এসে এই জুটি ভাঙেন। গ্রেভস ৪৬ রানে নাঈমের বলে এলবিডব্লিউ হন। জশুয়া বিশপ ১৫ রানে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে স্টাম্পড হন। নাঈম এরপর আরও তিনটি উইকেট তুলে নেন। শামার জোসেফ চার রান করে কট বিহাইন্ড হন এবং ওয়ারিক্যান শূন্য রানে এলবিডব্লিউ হন। জেইডেন সিলসও শূন্য রানে আউট হলে ইনিংস শেষ হয়। নাঈম চার উইকেট নেন।