মাটি পরীক্ষা না করে সার দেওয়ায় পরিমাণ বেশি লাগছে: কৃষিমন্ত্রী
মাটি পরীক্ষা না করে সার দেওয়ায় পরিমাণ বেশি লাগছে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, কৃষি মন্ত্রণালয়রে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি চিন্তা করেছি, জমির তুলনায় কেন এত বেশি সার লাগছে? পরবর্তীতে দেখতে পেলাম, আমাদের মাটি পরীক্ষা করে সার প্রয়োগ করা হয় না। এতে করে সার প্রয়োজনের তুলনায় বেশি প্রয়োগ হচ্ছে। যেখানে মাটির পিএইচ ৭ দশমিক ৫ থাকার কথা সেখানে সারা দেশে গড়ে মাটির পিএইচ ৪ দশমিক ৫। তাই আমরা সারা দেশের মাটি পরীক্ষার একটি কার্যক্রম হাতে নিয়েছিলাম, যা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। ভবিষ্যতে মাটি পরীক্ষা করে সার প্রয়োগকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
রোববার (১ নভেম্বর) গাবতলীতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) নবনির্মিত ৬ হাজার টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন প্রি-ফেব্রিকেটেড স্টিল (পিএফজি) সার গুদামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম।
মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষক প্রয়োজন মতো সার না পেলে উৎপাদন ব্যাহত হবে। তাই উৎপাদন, সংরক্ষণ, সরবরাহ ও বিতরণ সুষ্ঠুভাবে করতে নতুন নতুন গুদাম তৈরি করা হচ্ছে। তা ছাড়া গুদামে সার মজুত থাকাই যথেষ্ট নয়, কৃষকের কাছে সার পৌঁছাতে হবে। কোনোভাবেই সার অপচয়, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা যাবে না। কোনো অনিয়ম পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, সার সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ স্বচ্ছ হতে হবে। এ জন্য বিএডিসির গুদামগুলোর তথ্য ও হালনাগাদ দায়িত্বশীলদের হাতে থাকতে হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ে সচিব মো. সেলিম খান বলেন, সার, সেচ ও বীজে বিএডিসির বিকল্প কোনো প্রতিষ্ঠান জন্ম নেয়নি, নেবেও না। আমাদের বছরে ৫৬-৫৮ লাখ টন সার আমদানি করতে হয়, স্থানের অভাবে অনেক সময় সেগুলো খোলা আকাশের নিচে রাখতে হয়। এতে সারের গুণাগুণ নষ্ট ও ক্ষতি হয়। এ জন্য গুদাম নির্মাণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন