পাইলটের পোশাকে বিমানবন্দরে গিয়ে কী অভিজ্ঞতা হলো তৌসিফের…
‘ক্যাফে আমব্রেলা’ ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করেছেন আরেফিন জিলানী, আমিনা ইসলাম, বিদুষী বর্ণিতা, তৌসিফ মাহবুব, নাযাহ নাওয়ার ও পার্থ শেখছবি: আইস্ক্রিনের সৌজন্যে
চার জুটির প্রেম, মান-অভিমান, ভুল-বোঝাবুঝি আর সম্পর্কের নানা সমীকরণ। সেই গল্পে একদিকে পরিচিত অভিনয়শিল্পী, অন্যদিকে অভিনয়ের নতুন তিন মুখ। নির্মাতা শিহাব শাহীনের ওয়েব ফিল্ম ‘ক্যাফে আমব্রেলা’ মুক্তি পাচ্ছে আজ ২৯ অক্টোবর। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রযোজনায় লাক্সের আয়োজনে নির্মিত ওয়েব ফিল্মটি দেখা যাবে আইস্ক্রিনে।
‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’-এর চ্যাম্পিয়ন বিদুষী বর্ণিতা, প্রথম রানারআপ নাযাহ নাওয়ার ও দ্বিতীয় রানারআপ আমিনা ইসলামকে নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘ক্যাফে আমব্রেলা’। তাঁদের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তৌসিফ মাহবুব, পার্থ শেখ, আরেফিন জিলানী, সাইদুর রহমান পাভেল ও সানজিদা তাসনিম। বিদুষীর বিপরীতে তৌসিফ, নাযাহর সঙ্গে পার্থ এবং আমিনার বিপরীতে রয়েছেন আরেফিন জিলানী। অন্য জুটিতে দেখা যাবে পাভেল ও সানজিদাকে। আইস্ক্রিনে মুক্তির আগে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকার পান্থপথের স্টার সিনেপ্লেক্সে ওয়েব ফিল্মের বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এতে ছবির অভিনয়শিল্পীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা থাকবেন।
নাম শুনে ক্যাফে বা খাবারকেন্দ্রিক গল্প মনে হলেও ‘ক্যাফে আমব্রেলা’তে মূলত মানুষের আবেগ, ভালোবাসা ও সম্পর্কের নানা দিক উঠে আসবে। শিহাব শাহীনের মতে, এটি বেশ কয়েকটি চরিত্রের সমান্তরাল গল্প। চারটি আলাদা গল্প এগিয়ে গিয়ে একপর্যায়ে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হবে। শুধু প্রেমের মিষ্টি মুহূর্ত নয়, সম্পর্কের জটিলতা, ভুল-বোঝাবুঝি ও মান-অভিমানের নানা দিকও উঠে আসবে এতে। নির্মাতার আশা, গল্পের বৈচিত্র্য এবং চার জুটির রসায়ন দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতা দেবে।
মুক্তির আগে ২২ অক্টোবর ওয়েব ফিল্মটির ট্রেলার প্রকাশিত হয়। তাতে বিভিন্ন জুটির সম্পর্কের নানা সমীকরণ ও আবেগের আভাস পাওয়া গেছে। এবার পূর্ণাঙ্গ গল্পে চরিত্রগুলোর সম্পর্ক কীভাবে এগোয়, তা দেখার অপেক্ষা দর্শকের।
লাক্স সুপারস্টার হওয়ার পর ‘ক্যাফে আমব্রেলা’ বিদুষী বর্ণিতার প্রথম বড় কাজ। সহশিল্পী হিসেবে তৌসিফ মাহবুবকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত তিনি। বিদুষী বলেন, ‘যখন তাঁর কাজ দেখতাম, মনে হতো বড় স্টার, তাঁর আলাদা অরা আছে। এখন দেখছি, তিনি বড় ভাইয়ের মতো, বন্ধুর মতো। আমাকে গাইড করছেন, নিজের দৃশ্য বাদ দিয়েও বিভিন্ন কিছু শেখাচ্ছেন। যত ভালো বিশেষণ আছে, সব গুণই তৌসিফ ভাইয়ের মধ্যে আছে।’ নতুনদের জন্য এ ধরনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন তিনি।
তৌসিফও নতুন সহশিল্পীর প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, বড় একটি মঞ্চে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে বিদুষীর চেষ্টা ও যোগ্যতা রয়েছে। নাযাহ আর আমিনার জন্যও শুভকামনা। নতুনদের পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে এই অভিনেতা বলেন, শুরুতে নিজেরাও এমন দিকনির্দেশনা পেলে অভিনয়জীবনের ভুলগুলো আরও কম হতো।
‘ক্যাফে আমব্রেলা’ নিয়ে তৌসিফের প্রত্যাশা, এটি কেবল রোমান্টিক গল্পে আটকে থাকবে না। পরিবার, দাম্পত্য জীবন এবং মানুষের অজান্তে ঘটে যাওয়া ভুলভ্রান্তিও এতে উঠে আসবে। তাঁর ভাষায়, দর্শক একটি পূর্ণাঙ্গ কাজ দেখতে পাবেন।
নাযাহর নতুন সুযোগ, আমিনার অভিষেক
নাযাহ নাওয়ারের কাছে শিহাব শাহীনের সঙ্গে কাজের সুযোগটি বড় প্রাপ্তির মতো। তিনি বলেন, ‘লাক্স থেকে বেরিয়ে প্রথম কাজ শিহাব শাহীন স্যারের সঙ্গে। এটা আমার কাছে বড় সুযোগ মনে হয়েছে। নতুন হিসেবে যতটা সহযোগিতা আশা করেছিলাম নির্মাতা ও সহশিল্পীদের কাছে, তার চেয়ে বেশি পেয়েছি।’
লাক্সে অংশ নেওয়ার আগে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের ‘অ্যানি’ সিরিজে অভিনয় করেছিলেন নাযাহ। কথা প্রসঙ্গে নাযাহ বলেন, ‘দ্বিতীয় কাজ হলেও মুক্তির দিক দিয়ে এখন এটিই প্রথম। আমি অনেকটা ভয়ে আছি, মানুষ কীভাবে গ্রহণ করে। তবে আশা করছি, ভিন্ন রকম কিছুই পাবে।’
অন্যদিকে আমিনা ইসলামের অভিনয়জীবনের আনুষ্ঠানিক অভিষেক হচ্ছে ‘ক্যাফে আমব্রেলা’ দিয়ে। কাজটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এই ওয়েব ফিল্মটি সারা জীবন মনে গেঁথে থাকবে।’ প্রথমবারের মতো অভিনয়জগতে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে আনন্দিত আমিনা। তাঁর পরিবারের সদস্যরাও কাজটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত
অন্য রকম তৌসিফ
ওয়েব ফিল্মটিতে তৌসিফ মাহবুবকে দেখা যাবে পাইলটের চরিত্রে। এ জন্য তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদেও আনা হয়েছে পেশাদার পাইলটের আদল। সাদা শার্ট, টাই, কালো প্যান্ট, পাইলটের টুপি ও ব্যাজ—সব মিলিয়ে তাঁর নতুন লুক নিয়ে আগেই আলোচনা হয়েছে।
তৌসিফ গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে জানান, পাইলটের পোশাকে ঢাকার বিমানবন্দরে গিয়ে মজার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। বলেন, ‘অনেকেই অভিনেতা হিসেবে চিনতে পারেননি। পেশাদার পাইলট ভেবে আলাদা সম্মানও দেখিয়েছিলেন কেউ কেউ। চরিত্রটির জন্য বাংলাদেশের পাইলটদের পোশাকের ধরন লক্ষ করে নিজের মাপ অনুযায়ী পোশাক তৈরি করেছি।’
বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা থাকলেও পাইলটের এই সাজ তাঁর জন্য ছিল নতুন অভিজ্ঞতা। চরিত্রের পোশাক যে একজন মানুষের প্রতি অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গিতেও প্রভাব ফেলতে পারে, বিমানবন্দরের সেই অভিজ্ঞতা থেকে সেটিও উপলব্ধি করেছিলেন অভিনেতা।
তিন নতুন অভিনয়শিল্পীকে ‘ক্যাফে আমব্রেলা’র জন্য তৈরি করতে শুটিংয়ের আগে কর্মশালা করেছিলেন শিহাব শাহীন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, লাক্স প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুবাদে তারা গ্রুমিং পেয়েছে, তবে অভিনয়ের আলাদা প্রশিক্ষণের প্রয়োজন ছিল না। সে জায়গায় তাদের তৈরির চেষ্টা করেছি।’
সব মিলিয়ে ‘ক্যাফে আমব্রেলা’ একদিকে শিহাব শাহীনের সম্পর্কনির্ভর গল্প বলার নতুন আয়োজন, অন্যদিকে বিদুষী, নাযাহ ও আমিনার অভিনয়জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। প্রতিষ্ঠিত অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে নতুনদের পর্দা রসায়ন এবং চারটি গল্পের সম্মিলন কতটা দর্শক টানতে পারে, তার উত্তর মিলবে আইস্ক্রিনে ওয়েব ফিল্মটির মুক্তির পর।
আপনার মতামত লিখুন